জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক (গ্রেড-২০) পদে জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরিতে যোগ দিতে এসে চার ব্যক্তি আটক হয়েছেন। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলা করা হয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মানসুর হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত চারজন হলেন—টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার মো. আ. আলিম, সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার মো. আলী হায়দার, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার মো. রাসেল রানা লিটন এবং গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মো. মাসুদ ফকির।
তদন্তে জানা যায়, তারা নিজেরা মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেননি। বরং তাদের হয়ে অন্য ব্যক্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হন। চাকরিতে যোগ দিতে এসে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তারা এ তথ্য স্বীকার করেন এবং পরে লিখিত বক্তব্যও দেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, গত ৫ মে সাঁটমুদ্রাক্ষরিক কাম-কম্পিউটার অপারেটর (গ্রেড-১৩) ও অফিস সহায়ক (গ্রেড-২০) পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। অফিস সহায়ক পদে আবেদন করেন ২৩ হাজার ৭০৯ জন। লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন ৯ হাজার ৩১৮ জন এবং সেখান থেকে ১০৭ জনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়। গত ২৪, ২৫ ও ২৮ জুন মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
পরবর্তীতে ৬ জুলাই ২০ জনকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং তাদের ১৯ জুলাই সকাল ১০টায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যোগ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
যোগদানের জন্য উপস্থিত হলে চারজনের চেহারার সঙ্গে মৌখিক পরীক্ষার সময় ধারণ করা ছবি ও সংরক্ষিত তথ্যের মিল পাওয়া যায়নি। এতে সন্দেহ সৃষ্টি হলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তখনই তারা স্বীকার করেন, তাদের পরিবর্তে অন্য ব্যক্তি মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা আরও জানান, সরকারি চাকরি পাওয়ার আশায় বিভিন্ন ব্যক্তিকে অর্থ দিয়েছেন। কেউ আগেই টাকা পরিশোধ করেছেন, আবার কেউ চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তি বা সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।




