জাপানের সঙ্গে ২৩টি বড় চুক্তি ও স্মারক সই: ২ লাখ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ – DesheBideshe

জাপানের সঙ্গে ২৩টি বড় চুক্তি ও স্মারক সই: ২ লাখ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ – DesheBideshe


জাপানের সঙ্গে ২৩টি বড় চুক্তি ও স্মারক সই: ২ লাখ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ – DesheBideshe

ঢাকা, ২৯ অক্টোবর – প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের টোকিও সফর বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এই সফরে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে সরকারি পর্যায়ে ১টি চুক্তি ও ৪টি সমঝোতা স্মারক (MoU), ২টি বিশেষ অনুদান চুক্তি এবং বেসরকারি খাতে দুই দেশের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭টি মেগা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাতে টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সফরের বিস্তারিত ও অভূতপূর্ব সাফল্যের কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি দৃপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই ঐতিহাসিক সফরের মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক বিনিয়োগ ও কূটনৈতিক অঙ্গনে এক আত্মবিশ্বাসী ‘নতুন বাংলাদেশের’ শুভ আত্মপ্রকাশ ঘটেছে।”

জাপান সফরের মূল চুক্তি ও আর্থিক প্রতিশ্রুতির হিসাব:

১. উপকূলীয় নিরাপত্তার জন্য টহলজাহাজ অনুদান (২১২ কোটি ইয়েন):

বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা ও উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদার করতে ২১২ কোটি জাপানি ইয়েন (প্রায় ১ কোটি ৩৫ লাখ মার্কিন ডলার) মূল্যের অনুদান চুক্তি সই হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় জাপান বাংলাদেশকে একটি আধুনিক টহলজাহাজ প্রদান করবে।

২. উপজেলা উন্নয়ন ও বিনিয়োগ সহজীকরণ ঋণ (১০৮ মিলিয়ন ডলার):

দেশে বিনিয়োগ পরিবেশের আমূল সংস্কার ও মানোন্নয়নে প্রায় ১০৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ইয়েন ঋণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান সরকার। এর পাশাপাশি তৃণমূল বা উপজেলা পর্যায়ে সুশাসন ও সামাজিক উন্নয়ন কার্যক্রমে ১৩.৬৮ বিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ১৯৪.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) সহায়তার কথা নিশ্চিত করা হয়েছে।

৩. ১৭টি চুক্তি ও ২ লাখ তরুণের কর্মসংস্থান:

বেসরকারি খাতের ১৭টি সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে আগামী ৫ বছরে দেশের বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে প্রায় ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৭২ হাজার কোটি টাকা) সম্ভাব্য বৈদেশীক বিনিয়োগের পথ উন্মুক্ত হয়েছে, যা অন্তত ২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

৪. এক্সপ্রেসওয়ে ও আধুনিক রেল নেটওয়ার্ক:

সফরে প্রধানমন্ত্রীর ভবিষ্যৎ অবকাঠামো রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়, যেখানে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে উড়াল এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ এবং ৬টি বিভাগে আধুনিক রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের বিষয়ে জাপানের কাছ থেকে জোরালো প্রতিশ্রুতির কথা জানানো হয়।

অর্থনৈতিক পর্যবেক্ষণ: বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও জাপান থেকে এত বিপুল পরিমাণ অনুদান, নমনীয় ঋণ এবং দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ নিশ্চিত করা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সার্বিক কর্মসংস্থান খাতে বড় ধরণের গতি সঞ্চার করবে।

এনএন/ ২৮ অক্টোবর ২০২৬