<![CDATA[
পবিত্র রমজান মাসে জামালপুর পৌর এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। একদিকে পানির স্তর নিচে মেনে যাওয়ায় টিউবওয়েল থেকে পানি উঠছে না। অন্যদিকে পৌরসভার সরবরাহকৃত পানি দুর্গন্ধ ও ময়লাযুক্ত হওয়ায় সাংসারিক কাজে ব্যবহার করতে পারছেন না এখানকার বাসিন্দারা।
এলাকাবাসী বলছেন, পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় শহরের ৮০ ভাগ টিউবওয়েলে পানি উঠছে না। এতে তাদের তীব্র খাবার পানি সংকট দেখা দিয়েছে।
তবে পৌরসভার এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর জানিয়েছেন, ভূ-গর্ভস্থ পানি শোধনাগার চালু হলে পানির চাহিদা পূরণ হবে পৌরবাসীর।
জামালপুরে শহরের বেশির ভাগ খাল-বিল, পুকুর, জলাশয়, নদী-নালা ভরাট করে বহুতল ভবনসহ নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলছে। আশপাশের কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে কোথাও নেই পানি। এতে পানির স্তর অনেক নিচে নেমে গেছে। সাবমারসিবল পাম্প দিয়ে কিছু পানি পাওয়া গেলেও সাধারণ পাম্পগুলো পানি তুলতে পারছে না। টিউবওয়েলগুলোর শতকরা ৮০টির পানি নাই। পানির তীব্র সংকটে অনেক বাসা-বাড়ির মানুষ বোতলজাত খাবার পানি কিনে খাচ্ছেন।
পানি সংগ্রহে দুর দূরান্তে ছুটছেন ভুক্তভোগীরা। রমজান মাসে পানির সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ তাদের।
আরও পড়ুন: এত পানির মাঝেও ‘পানির কষ্ট মানুষের’
শহরের পাখালিয়া কাচারীপাড়া, বোষপাড়া, ফুলবাড়িয়া, ইকবালপুর, মুসলিমাবাদ, মুকন্দবাড়ি, মৃধাপাড়া, বজ্রাপুরসহ বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পানির জন্য মানুষের ভোগান্তি চরমে। রমজান মাসে মানুষের পানির চাহিদা একটু বেশি হওয়ায় মসজিদসহ অন্যের বাড়িতে গিয়ে পানি সংগ্রহ করছেন অনেকেই। তবে চাহিদা মতো পানি পাচ্ছেন না তারা।
এদিকে টিউবওয়েলে পানি না পেয়ে অনেকেই পৌরসভার সরবরাহকৃত পানির লাইন নিয়েছেন। কিন্তু পানি দুর্গন্ধ ময়লাযুক্ত থাকায় সেই পানি খাওয়া তো দূরের কথা সাংসারিক কোনো কাজে ব্যবহার করা যায় না।
পৌর এলাকার চালাপাড়া গ্রামের সোনিয়া বেগম বলেন, পানি নিয়ে যে কষ্টে আছি এক আল্লাহ জানে। টিউবওয়েলে পানিই আসে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কল চেপে এক বালতি পানি পাই না। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় এমনকি কোমর ব্যথায় আক্রান্ত হয়ে পড়েছি। পৌরসভা থেকে পানির সরবরাহ নিয়েও লাভ নেই। সে পানি দুর্গন্ধ ও ময়লাযুক্ত। মাঝে মধ্যেই পোকা আসে। সে পানি খাবার তো দুরের কথা কাপড়চোপড়ও ধোয়া যায় না।
আরও পড়ুন: বরিশালে তীব্র পানির সংকট, নগরবাসীর হাহাকার
জামালপুর পৌরসভার মেয়র ছানোয়ার হোসেন ছানু বলেছেন, বড় একটি প্রকল্পকাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। সেটি এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে, পুরাতন লাইনের যে অবস্থা পানি দেয়ার জন্য মেশিন চাপ দিলেই ফেটে যায়। এজন্য আধুনিক মানের পাইপ দিয়ে নতুন লাইন সংযোগের আগ পর্যন্ত এই ভোগান্তি সহ্য করতে হবে।
তবে জামালপুর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সুলতান মাহমুদ জানিয়েছেন, ৩৭ জেলার পানি সরবরাহের আওতায় ৩৫০ ঘনমিটার পার আওয়ার ক্যাপাসিটির একটি ভূ-গর্ভস্থ পানি শোধনাগার পৌরসভার বগাবাইদে স্থাপন করেছি। দীর্ঘদিন চলমান রেখে ট্রায়াল করা হচ্ছে, রমজানেই চালু হবে। এটা চালু হলে পৌরবাসীর পানির চাহিদা পূরণ হবে।
পৌরবাসী পানির চাহিদা পূরণে ঘণ্টায় ৩৫০ ঘনমিটার ক্ষমতা সম্পূর্ণ ভূ-গর্ভস্থ পানি শোধনাগার নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
]]>



