অভিনেতা থেকে নির্মাতা হওয়া বাবর বললেন ‘রক্ত, ঘাম ও ভালোবাসা সবকিছু মিশিয়ে ভায়োলেন্স নির্মাণ করেছি’

‘বেগমপাড়া’সহ একাধিক কনটেন্ট নির্মাণের পর এবার বড় পরিসরে সিনেমা নির্মাণ করছেন অভিনেতা থেকে নির্মাতা হওয়া কামাল হোসেন বাবর। কানাডাপ্রবাসী এই নির্মাতা এবার প্রথমবারের মতো পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা নির্মাণ করছেন। তার পরিচালিত সিনেমাটির নাম ‘ভায়োলেন্স’। এতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছেন জায়েদ খান ও শিরিন শিলা।
আশির দশকের শুরুতে ‘দূরদেশ’ নামে যৌথ প্রযোজনার একটি সিনেমার কিছু অংশের শুটিং হয়েছিল কানাডায়। এতে অভিনয় করেছিলেন পাকিস্তানের নাদিম বেগ, বাংলাদেশের ববিতা, ভারতের শশী কাপুর ও শর্মিলা ঠাকুর। তবে নির্মাতা বাবরের দাবি, এবারই প্রথম সম্পূর্ণ কানাডায় চিত্রায়িত হচ্ছে কোনো বাংলাদেশি সিনেমা। টরন্টো, মন্ট্রিয়ালসহ কানাডার বিভিন্ন লোকেশনে সিনেমাটির ৯০ শতাংশ শুটিং শেষ হয়েছে।
গত ছয় বছর ধরে কানাডায় বসবাস করছেন কামাল হোসেন বাবর। সেখানে বসেই ‘ভায়োলেন্স’ সিনেমা নিয়ে চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। নির্মাতা জানান, কানাডায় আসার পর থেকেই প্রতিবছর বিভিন্ন কনটেন্ট নির্মাণ করছেন। এ কাজে ব্যবহারের জন্য অনেক টেকনিক্যাল সরঞ্জামও নিজেই কিনেছেন, যা বাংলাদেশে বড় বড় বিজ্ঞাপন নির্মাণে ব্যবহার করা হয়। নিজের সরঞ্জাম থাকায় সিনেমাটির নির্মাণ ব্যয় কিছুটা কমানো সম্ভব হয়েছে।
বাবর বলেন, গানের কাজও শেষ হয়েছে। সংগীত পরিচালনা করছেন ইমন সাহা। শিগগিরই সম্পাদনার কাজ শুরু করবেন। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৭ সালের মে অথবা জুন মাসে বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় একযোগে সিনেমাটি মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে আয়োজন করা হবে প্রিমিয়ার।
সিনেমাটি নির্মাণে কানাডাপ্রবাসী দুজন প্রযোজক সহযোগিতা করেছেন। পাশাপাশি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের স্পন্সরশিপও পেয়েছেন বলে জানান নির্মাতা।
কানাডায় সিনেমা নির্মাণের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে বাবর বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে কানাডায় এসে শুরুতেই সিনেমা নির্মাণ করা সো টাফ। আমি দীর্ঘদিন ধরে এখানে থাকায় যাদের কাছেই সহযোগিতা চেয়েছি, পেয়েছি। কানাডায় শুটিং করতে থানা, পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স সবকিছুর অনুমতি নিতে হয়েছে। পাশাপাশি ৫ মিলিয়ন ডলারের ইনস্যুরেন্স করতে হয়েছে। আমি বলব, অবশ্যই ‘ভায়োলেন্স’ অনেক ব্যয়বহুল সিনেমা হয়েছে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশি টাকায় ৪ কোটি টাকার বেশি খরচ হবে।’
নির্মাতা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশি টাকায় ৪ কোটি হলেও কানাডার মুদ্রায় তা প্রায় ৪ লাখ ডলার। আমি কানাডার বাসিন্দা হিসেবে বলছি, এই টাকায় এখানে সিনেমা নির্মাণ করা যায় না। মেইনস্ট্রিম সিনেমা বানাতে এখানে কয়েক মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হয়। তবে বাংলাদেশেও শাকিব খান ছাড়া অন্য কাউকে নিয়ে মোটামুটি ভালো মানের সিনেমা নির্মাণ করতে ৩-৪ কোটি টাকা খরচ হয়।’
কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি থিয়েটারে ‘ভায়োলেন্স’ মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। ইতোমধ্যে পরিবেশকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং তারা আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশেও সিনেমাটি মুক্তি পাবে। পাশাপাশি স্পন্সর ও ওটিটি স্বত্ব মিলিয়ে নির্মাণ ব্যয় তুলে আনা কঠিন হবে না বলে মনে করেন বাবর।
‘ভায়োলেন্স’ সিনেমার গল্পের বিষয়বস্তু সম্পর্কে নির্মাতা বলেন, মানি লন্ডারিং, টরন্টো পুলিশ ও রাজনৈতিক থ্রিলার—এই তিনটি বিষয়কে ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে সিনেমাটির গল্প। গল্পটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেই নির্মিত। দেশের টাকা কীভাবে বিদেশে পাচার হচ্ছে, সেই বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি এর বিরুদ্ধে কী ধরনের জবাব হওয়া উচিত, সে বিষয়েও সিনেমায় বড় একটি বার্তা রয়েছে। দর্শক সিনেমাটি দেখার পর প্রশংসা করবেন বলে তার বিশ্বাস।

নির্মাতার ভাষ্য, ‘আমি যে আয়োজন নিয়ে এই অ্যাকশন থ্রিলার সিনেমাটি নির্মাণ করেছি, বাংলাদেশ থেকে কেউ এসে বানাতে চাইলে ৮-১০ কোটি টাকার কমে সম্ভব হবে না।’
সিনেমাটিতে জায়েদ খানের কাজের অভিজ্ঞতা নিয়েও কথা বলেন বাবর। তিনি জানান, জায়েদ খান টানা ২৩ দিন শুটিং করেছেন। এমন কোনো দিন যায়নি, যেদিন ২৫-৩০ জনের ইউনিট নিয়ে কাজ করা হয়নি। জায়েদ কোনো ডামি শট দেননি। শুটিংয়ে তিনি নিজেও মাথায় আঘাত পেয়েছেন। নির্মাতার হাতেও ব্যথা লেগেছে। তবে সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে কাজ চালিয়ে গেছেন তারা।
বাবর বলেন, ‘রক্ত, ঘাম ও ভালোবাসা সবকিছু মিশিয়ে সিনেমাটি নির্মাণ করছি। দর্শক সিনেমাটি দেখলে বুঝতে পারবেন, আমরা আসলে কী করেছি।’
নির্মাণের শুরুতে যে ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন, তাতে শতভাগ সফল হয়েছেন বলে মনে করেন বাবর। তার কোর টিমে ছিলেন নয়জন। টানা ৪৫ দিন কাজ করার পর টিমের সবার মুখে হাসি দেখেছেন বলেও জানান তিনি।
জায়েদ খানকে নিয়ে আলাদা করে বলতে গিয়ে নির্মাতা বলেন, ‘জায়েদকে বাংলাদেশে সেভাবে ব্যবহার করা হয়নি। সে এতদিন নিজের মতো করে কাজ করেছে। আমি শুধু বলব, সিনেমার ২৫ মিনিট পর থেকে জায়েদের অভিনয় ও লুক অন্যরকম লাগবে।’
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…




