<![CDATA[
কারণ দর্শানো চিঠির জবাব না দেওয়ায় চিত্রনায়ক জায়েদ খানের সদস্যপদ বাতিল করতে যাচ্ছে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি। এছাড়া নায়ক রুবেল ও নায়িকা সুচরিতাকেও কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
বিদেশে থাকায় নির্ধারিত সময়ে শোকজের জবাব দিতে পারেননি জায়েদ খান। যে কারণে তার সদস্য পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত হতে পারে রোববার (২ এপ্রিল) সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের মতবিনিময় সভায়।
চিত্রনায়ক জায়েদ খান ভারতে থাকাকালীন তার বাসায় কারণ দর্শনার চিঠি দেন শিল্পী সমিতিরি সাধারণ সম্পাদক দায়িত্বপালন করা চিত্রনায়িকা নিপুণ আক্তার।
গত ২২ ফেব্রুয়ারিতে দেয়া চিঠিতে বলা হয়, আপনি সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সদস্য হয়ে, বেশ কয়েকদিন থেকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও ইউটিউব চ্যানেলে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নিপুণ আক্তারের বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্য প্রদান করছেন, যা সমিতির সাধারণ সদস্য ও সমিতির ভাবমূর্ত দেশের মানুষের কাছে ক্ষুণ্ন হয়েছে।
তাই কেন আপনার বিরুদ্ধে সমিতির গঠনতন্ত্র ৭(ক) ধারায় মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তা পত্র পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে লিখিতিভাবে জানাতে হবে।
বিষয়টি নিয়ে সময় সংবাদকে জায়েদ খান বলেন, ‘আমি ভারতে থাকা অবস্থায় তিনি আমাকে চিঠি দিয়েছেন। কারণ ওই সময় আমি এই চিঠির উত্তর দিতে পারব না বলে প্রিপ্ল্যান করে দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: জনপ্রিয়তা আছে বলে আমাকে দিয়ে ফিতা কাটায়: অপু বিশ্বাস
আর যে বিষয়টি স্পষ্ট তা হলো, এ পদটি নিয়ে মামলা চলমান। উনি কোনোভাবেই আমাকে চিঠি দিতে পারেন না। কারণ দর্শানোর যদি চিঠিই দিতে হয় তাহলে সমিতির সভাপতি অফিসিয়াল প্যাডে আমাকে দিতেন। শুধুমাত্র আমাকে হয়রানির জন্য তারা এ সমস্ত কার্যকলাপ করে যাচ্ছেন। অর্থাৎ ক্ষমতা দেখিয়ে পদ বাতিলের মিশনে নেমেছেন। তবে সাংগঠনিকভাবে তিনি আমার সদস্য পদ বাতিল করতে পারবেন না।’
এদিকে, চিত্রনায়ক মাসুম পারভেজ রুবেলও (বর্তমান সহ-সভাপতি, বাংলাদশে চলচ্চিত্র শিল্পী সিমিতি) কারণ দর্শানোর নোটিশ পেয়েছেন। ইলিয়াস কাঞ্চন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, আপনাকে শিল্পী সমিতির সাধারণ সদস্যরা তাদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য সমিতিতে আপনার মতামত ও কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত করেছে। আপনি শপথ নিলেও কোনো কার্যনির্বাহী সভায় অংশ নেননি। বরাবর ৩টি কার্যনির্বাহী সভায় আপনি অনুপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: অপুর স্ট্যাটাসের জবাব দিলেন বুবলী
এতে সমিতির কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। তাই কেন আপনার বিরুদ্ধে সমিতির গঠনতন্ত্র ৭(ক) ধারায় মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা পত্র পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে লিখিতিভাবে জানাতে হবে।
রুবেলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়ার পরপরই তিনি ব্যাখ্যা দেন সভাপতি বরাবর। তিনি তার ব্যাখ্যায় লেখেন, পত্রটি তিনি হাতে পেয়েছেন। তার উল্লেখযোগ্য ব্যাখ্যায় ছিল, সমিতির ৯ (ঘ) ধারায় সমিতির ‘সাধারণ সম্পাদক’ পদটি কার্যনির্বাহী পরিষদের প্রধান নির্বাহী পদ। এই ধরণের দাপ্তরিক চিঠিপত্রে তারই স্বাক্ষরে প্রেরণ হবার কথা। এছাড়াও কোনো যৌক্তিক কারণ জানতে সমিতির সহ-সাধারণ সম্পদক দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
আরও পড়ুন: মাসব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রে প্রদর্শিত হবে ‘ব্ল্যাক ওয়ার’
তার চেয়ে বড় সত্য এ যে, সমিতির প্রধান নির্বাহী পদটি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান। পদের বৈধতা নিয়ে আদালতে মামলাটি বিচারাধীন। এখনো আপিল বিভাগ কর্তৃক পদটির কোনো পূর্ণ মীমাংসা হয়নি। যেহেতু আমি দেশের একজন নাগরিক, আমার দেশের আইনের প্রতি আমার শ্রদ্ধা রয়েছে। সেহেতু আইনকে সম্মান করে পদটির মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত আমার সভায় উপস্থিত হওয়া সম্ভব নয়।
রুবেলকে ছাড়াও একই চিঠি পেয়েছেন চিত্রনায়িকা সুচরিতা। তাকে সভায় উপস্থিত না থাকার কারণে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। অবশ্য তিনি একইভাবেই ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
]]>



