জিন কেন সব সময় কাজ করে না

জিন কেন সব সময় কাজ করে না

পাজামো এক্সপেরিমেন্ট: প্রথম প্রমাণ

পাস্তুর ইনস্টিটিউটের করিডোরে তখন দিনরাত আলোচনা চলছে ল্যাকটোজ ও জিনের সুইচ নিয়ে। জ্যাক মনো ও ফ্রাঁসোয়া জ্যাকবের সেই ভাবনার মিছিলে যোগ দিলেন আমেরিকান বিজ্ঞানী আর্থার পার্ডি। তিনজনের লক্ষ্য তখন একটাই—শুধু অনুমান নয়, এবার হাতেনাতে প্রমাণ চাই।

তাঁরা এমন এক পরীক্ষার পরিকল্পনা করলেন যা জিনের নিয়ন্ত্রণকে সরাসরি চোখের সামনে তুলে ধরবে। তখনকার সময়ে এটি ছিল এক দুঃসাহসী ও বিপ্লবী ভাবনা। তাঁরা বেছে নিলেন ব্যাকটেরিয়ার কনজুগেশন বা জিন স্থানান্তরের এক প্রাকৃতিক পদ্ধতি। এটি অনেকটা এক ব্যাকটেরিয়া থেকে অন্য ব্যাকটেরিয়ায় তথ্যের আদান-প্রদান।

তাঁরা দুই ধরনের ব্যাকটেরিয়া নিলেন। একদল এনজাইম তৈরি করতে পারে (দাতা), আর অন্যদল পারে না (গ্রহীতা)। দাতা ব্যাকটেরিয়া থেকে ল্যাকটোজ হজমের জিন যখন গ্রহীতা কোষে ঢুকল, দেখা গেল গ্রহীতা কোষটি এনজাইম তৈরি করতে শুরু করেছে। এটুকু পর্যন্ত প্রত্যাশিতই ছিল।

আসল মোড় এল পরীক্ষার দ্বিতীয় ধাপে। তাঁরা জিনের সঙ্গে যোগ করলেন এক বিশেষ উপাদান, নাম দিলেন ‘i জিন’। পরে জানা গেল, এই i জিন-ই হলো সেই কাঙ্ক্ষিত নিয়ন্ত্রণকারী জিন। এই জিনটি এক বিশেষ প্রোটিন তৈরি করে, যার কাজ হলো ল্যাকটোজ হজমের জিনকে পাহারা দেওয়া।

দাতা কোষ থেকে যখন এই i জিনটি গ্রহীতা কোষে প্রবেশ করল, বিজ্ঞানীরা বিস্ময়ের সঙ্গে খেয়াল করলেন, কীভাবে জিনের কাজ মুহূর্তের মধ্যে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। এই ঐতিহাসিক পরীক্ষাই বিজ্ঞানের ইতিহাসে ‘পাজামো এক্সপেরিমেন্ট’ নামে পরিচিত। এর নামকরণ করা হয়েছে দাতা ও বিজ্ঞানীদের নামের আদ্যক্ষর (Pardee, Jacob, Monod) দিয়ে। এই পরীক্ষার মাধ্যমেই মানুষ প্রথম জানতে পারল, জিনের ভেতর সত্যিই সুইচ আছে!