টিটি ডিসকাউন্টিং ও লিয়েন বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সিদ্ধান্ত | চ্যানেল আই অনলাইন

টিটি ডিসকাউন্টিং ও লিয়েন বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সিদ্ধান্ত | চ্যানেল আই অনলাইন

ব্যাংকগুলোর জন্য টেলিগ্রাফিক ট্রান্সফার (টিটি) ডিসকাউন্টিং সুবিধার বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষিত চলতি হিসাবের অর্থ লিয়েন (অবরুদ্ধ) রাখার দীর্ঘদিনের নিয়ম বাতিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে এ ব্যবস্থা আর কার্যকর থাকবে না।

সোমবার (৪ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে এই সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে। সার্কুলারটি দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ১৯৯৪ ও ১৯৯৯ সালে জারি করা নির্দেশনার আওতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা নেই সেখানে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে সিকিউরিটি বন্ধক রেখে টিটি ডিসকাউন্টিং সুবিধা দেওয়া হতো। কোনো ব্যাংকের পর্যাপ্ত সিকিউরিটি না থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষিত চলতি হিসাবের অর্থ লিয়েন রেখে ওই সুবিধা গ্রহণের সুযোগ ছিল।

পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী, অনুমোদিত টিটি ডিসকাউন্টিং সীমার ২০ শতাংশ সমপরিমাণ অর্থ চলতি হিসাবে লিয়েন রাখতে হতো। এই অর্থ বিধিবদ্ধ নগদ জমা (সিআরআর) হিসেবে গণ্য করা হতো না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাষ্য, বর্তমানে ব্যাংকগুলোর স্বল্পমেয়াদি তারল্য ব্যবস্থাপনার জন্য কল মানি মার্কেট, রেপো, স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) এবং আন্তঃব্যাংক ঋণসহ বিভিন্ন বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থা সহজলভ্য রয়েছে। ফলে চলতি হিসাবে অর্থ লিয়েন রেখে টিটি ডিসকাউন্টিং সুবিধা চালু রাখার প্রয়োজনীয়তা আর নেই।

এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে খুব কম সংখ্যক ব্যাংক এ সুবিধা ব্যবহার করছে। অনেক ব্যাংক টিটি ডিসকাউন্টিং সুবিধা গ্রহণ না করলেও অনুমোদিত সীমার ২০ শতাংশ অর্থ লিয়েন অবস্থায় রাখতে হতো। যেহেতু এ অর্থ সিআরআর হিসেবে গণ্য হতো না, তাই বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক অনুপাত বজায় রাখতে ব্যাংকগুলোকে অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়তে হতো।

এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক টিটি ডিসকাউন্টিং সুবিধার বিপরীতে চলতি হিসাবের অর্থ লিয়েন রাখার বিধান প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশা, নতুন এ সিদ্ধান্ত ব্যাংকগুলোর তারল্য ব্যবস্থাপনা আরও নমনীয় করবে এবং নিয়ন্ত্রক বাধ্যবাধকতা পালনে অপ্রয়োজনীয় চাপ কমাতে সহায়তা করবে।