মার্কিন ডলার দুর্বল হয়ে যাওয়া এবং দেশটির সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সূচক তুলনামূলক দুর্বল থাকায় ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা কমেছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে।
রোববার (১৭ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৯১ দশমিক ০৭ ডলারে উঠেছে। এর আগে গত সপ্তাহে স্বর্ণের দাম দুই মাসের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।
এদিকে ডিসেম্বর ডেলিভারির জন্য মার্কিন গোল্ড ফিউচারের দাম ০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৪৮ দশমিক ১০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে মার্কিন ডলার সূচক কমেছে ০ দশমিক ১ শতাংশ। ফলে অন্যান্য মুদ্রায় লেনদেন করা বিনিয়োগকারীদের কাছে ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ তুলনামূলক সস্তা হয়েছে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের তুলনামূলক নরম মূল্যস্ফীতির তথ্য ডলারের ওপর চাপ তৈরি করেছে। এর ফলে স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৪০০ ডলারের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে জুলাইয়ের কর্মসংস্থান প্রত্যাশার তুলনায় অপ্রত্যাশিতভাবে কমেছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির তথ্যও তুলনামূলক নরম ছিল। এসব অর্থনৈতিক সূচকের কারণে আগামী মাসে ফেড সুদের হার বাড়াতে পারে, এমন প্রত্যাশা কমেছে।
সিএমই ফেডওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা বর্তমানে ৩০ শতাংশ। এক মাস আগে এ সম্ভাবনা ছিল ৪৭ শতাংশ।
সাধারণত সুদের হার কম থাকলে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ ধরে রাখার সুযোগ-ব্যয় কমে যায়। এতে বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণের আকর্ষণ বাড়ে এবং এর দামও বাড়ার সুযোগ পায়।
বাজারের নজর এখন বুধবার প্রকাশিতব্য ফেডারেল রিজার্ভের জুলাই বৈঠকের কার্যবিবরণীর দিকে। ওই নথি থেকে ভবিষ্যৎ সুদের হার নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারকদের অবস্থান সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট রুপার দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৫ দশমিক ৫৩ ডলারে উঠেছে। প্লাটিনামের দাম ০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৭৫২ দশমিক ৩৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আর প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৩৩৩ দশমিক ৩৫ ডলারে পৌঁছেছে।


