‘ডেভিড ইমন গ্রেপ্তার’ দাবি ঘিরে বিভ্রান্তি, যা বলছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ | চ্যানেল আই অনলাইন

‘ডেভিড ইমন গ্রেপ্তার’ দাবি ঘিরে বিভ্রান্তি, যা বলছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ | চ্যানেল আই অনলাইন

চট্টগ্রামের আলোচিত অপরাধী চক্রের সদস্য ও শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সহযোগী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ‘ডেভিড ইমন’ রাজধানীর গুলশান-২ এলাকার একটি অভিজাত হোটেল থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লেও তা সঠিক নয় বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)।

সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে ‘বড় সাজ্জাদের সহযোগী ডেভিড ইমন গ্রেপ্তার’ শিরোনামে সংবাদ ও ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দাবি করা হয়, ঢাকার গুলশান এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এমনকি সিএমপি কমিশনারের উদ্ধৃতিও দেওয়া হয়। তবে পুলিশ বলছে, এসব তথ্য বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিএমপি জানায়, কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত ওই সংবাদ তাদের নজরে এসেছে। সংবাদে বলা হয়েছে, সিএমপি কমিশনার ডেভিড ইমনের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কিন্তু বাস্তবে ডেভিড ইমন গ্রেপ্তার হননি এবং কমিশনার এ ধরনের কোনো বক্তব্যও দেননি।

সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, তার উদ্ধৃতি দিয়ে ইমনকে গ্রেপ্তারের যে তথ্য প্রচার করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ বিষয়ে তার সঙ্গে কেউ যোগাযোগও করেনি।

পুলিশ সূত্র জানায়, সম্প্রতি যে ইমনকে গ্রেপ্তারের তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তিনি রাউজান উপজেলার ডাবুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মোহাম্মদ ইমন। তিনি একটি সিআর মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

অন্যদিকে, প্রকৃত ডেভিড ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগরের বাসিন্দা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২৫ সালের বাকলিয়া জোড়া খুন, পতেঙ্গায় ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি। পুলিশের দাবি, বিদেশে অবস্থানরত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর পক্ষে তিনি চট্টগ্রামে অপরাধী নেটওয়ার্ক পরিচালনা করেন।

সিএমপির সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশীদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ডটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। কমিশনারের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

পুলিশের ধারণা, নামের মিলের কারণে এ বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। তবে একইসঙ্গে ডেভিড ইমনকে ঘিরে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর পেছনে কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।