ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে গোলের দারুণ সুযোগ তৈরি করে স্পেন। ডি-বক্সের ডান পাশে বল পান লামিন ইয়ামাল। গোলমুখে শটও নেন, তবে বাম পাশে ঝাঁপিয়ে প্রতিহত করেন আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। ফিরতি বল পেয়ে ফের আক্রমণে গেলেও আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ প্রতিহত করেন তা।
স্পেনের আক্রমণ ঠেকানোর পর সেখান থেকেই পাল্টা আক্রমণে ওঠার সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। তবে থ্রু বল লিওনেল মেসি রিসিভ করার আগেই ডি-বক্স ছেড়ে এগিয়ে এসে বিপদমুক্ত করেন স্পেন গোলরক্ষক উনাই সিমন। ফিরতি বল পায়ে নিতে পারলেন না জুলিয়ান আলভারেজ, আক্রমণের সুযোগ হারায় আর্জেন্টিনা।
১২ মিনিটে ফের আক্রমণে যায় স্পেন। বল ক্লিয়ার করতে কিছুটা নড়বড়ে ছিলেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। শেষ পর্যন্ত কর্নারের বিনিময়ে বিপদমুক্ত করেন তিনি। অ্যালেক্স বেনার কর্নার কিকে তেমন সুবিধা করতে পারেনি স্পেন।
ম্যাচের ১৬তম মিনিটে কিক অফের পর প্রথমবার বলের ছোঁয়া পেলেন লিওনেল মেসি। তবে সেটি তাকে রাখতে দিলেন না অ্যালেক্স বেনা। পেছন থেকে কনুই দিয়ে ধাক্কা দিয়ে মেসিকে ফেলে দেন তিনি। মাঝমাঠের কাছাকাছিতে ফ্রি কিক পায় আর্জেন্টিনা। রদ্রিগো ডে পলের উঁচু করে নেওয়া শট ডি বক্সে নাগাল পেলেন না নিকো গঞ্জালেস, সুযোগ হারায় আলবিসেলেস্তেরা।
১৭ মিনিটের উঁচু করে আসা বল ধরে ডান পাশ দিয়ে আর্জেন্টিনা ডি-বক্সে ঢুকেন ইয়ামাল। তবে তার দুর্বল শট সহজেই ঠেকালেন মার্টিনেজ। ২৪ মিনিটে মার্ক কুকুরেয়ার শট থেকে কর্নার পায় স্পেন। তবে অ্যালেক্স বেনার কর্নার কিকে বিপদ হতে দেননি মার্টিনেজ। বল সরাসরি নিজের গ্লাভসে নেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক।
৩২ মিনিটে দারুণ বোঝাপড়ায় বাম পাশ দিয়ে আক্রমণে যায় স্পেন। তবে শেষ পর্যন্ত ক্রসটা ভালো দিতে পারেননি অ্যালেক্স বেনা। সহজেই ঠেকিয়ে দেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো।
৩৫ মিনিটে আক্রমণে উঠেছিল স্পেন। আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের ডানদিকের ফাঁকা জায়গা কাজে লাগিয়ে ভালো সুযোগ তৈরি করে তারা। ফ্যাবিয়ান রুইজ বল বাড়িয়ে কুকারেয়াকে দেন। এই ফুলব্যাক অবশ্য খুব একটা ভালো ক্রস করতে পারেননি, একইসঙ্গে অফসাইডের ফাঁদে পড়েন তিনি।
৩৯ মিনিটের ডি-বক্সের বাইরে বল পেয়ে দূর পাল্লার শট নেন মিকেল ওয়েরজাবাল। তবে বল সরাসরি এমিলিয়ানোর গ্লাভসেই জমা পড়ে। ৪১ মিনিটে আক্রমণে উঠে আর্জেন্টিনা। কিন্তু শেষটা ভালো হলো না। একটি পাস ধরতে ভুল করার পর বল রিকভার করতে গিয়ে পেছন থেকে মিকেল ওয়েরজাবালকে ফাউল করেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। তাতে হলুদ কার্ড দেখতে হয় তাকে।
৪৪ মিনিটে পেশিতে টান পান লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। চোটের কারণে মাঠ ছেড়ে যেতে হয় তাকে। তার জায়গায় নামেন নিকোলাস ওটামেন্ডি। শেষ অবধি প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য সমতায়।
বিরতির পর নেমে শুরুতেই আক্রমণ সাজায় স্পেন। ডি-বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার শটের চেষ্টা করেন অ্যালেক্স বেনা। বাম দিকে ঝাঁপিয়ে ঠেকান এমিলিয়ানো। ৪৭ মিনিটে ম্যাচের প্রথম কর্নার পায় আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির কর্নার কিক থেকে সুবিধা করতে পারল আলবিসেলেস্তেরা।
৫৫ মিনিটে আর্জেন্টিনাকে গোল হজম থেকে রক্ষা করেন গঞ্জালো মন্টিয়েল। আর্জেন্টিনার ডান পাশ থেকে বক্সের মাঝের দিকে বাড়ান দানি ওলমো। অল্পের জন্য মার্ক কুকুরেয়ার পায়ে যায়নি বল। তার আগেই দৌড়ে এসে কর্নারের বিনিময়ে প্রতিহত করেন গঞ্জালো মন্টিয়েল। পরে কর্নার কিক থেকে সুবিধা করতে পারেনি স্পেন।
৬৩ মিনিটে আর্জেন্টিনার রক্ষণের কঠিন পরীক্ষা নেন দানি ওলমো। তার দূরপাল্লার শট ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে চলে গেল জাল বরাবর। তবে ঠিক লাইনেই ছিলেন এমিলিয়ানো। তবে গ্লাভসে নিতে পারেননি। তার গায়ে লেগে কর্নারে যায় বল। ছোট করে নেওয়া কর্নারের পর ক্রস দিলেন লামিন ইয়ামাল। তাতে হেড করতে পারেননি স্পেনের কেউ। ফের কর্নার পায় তারা।
পরের কর্নার থেকে আর্জেন্টিনা ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ভেতরে ঢুকতে চেয়েছিলেন ইয়ামাল। তাতে ব্যর্থ হয়ে বক্সের ভেতর চমৎকারভাবে ক্রস বাড়ান, কিন্তু লিয়েন্দ্রো পারেদেস বলটি ফ্লিক করে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দেন। পরেও আবারও কর্নার পায় স্পেন। কর্নার থেকে আক্রমণ গড়ে ঠিক বাইলাইন থেকে ক্রস করেন লামিন ইয়ামাল। লাফিয়ে উঠে হেড করেন ফেররান তোরেস। তার জোরাল হেড ছিল ঠিক এমিলিয়ানোর বরাবর। নিরাপদে বল গ্লাভসে নেন, গোল হজম থেকে বাঁচে আর্জেন্টিনা। এরপরই দ্বিতীয় হাইড্রেশন বিরতিতে যায় দুদল।
৭৭ মিনিটে রদ্রির দারুণ পাসে ডি-বক্সের মুখে বল পান পেদ্রি। তবে তার বাম পায়ের শট ঠেকিয়ে দেন এমিলিয়ানো। পরের মিনিটে ডান পাশে ডি-বক্সের বাইরে থেকে জোরাল দূরপাল্লার শট নেন পাউ কুবারসি। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে দারুণভাবে প্রতিহত করেন এমিলিয়ানো। পরে কর্নার পায় স্পেন। সেখান থেকে অবশ্য সুবিধা করতে পারেনি স্পেন।
৮১ মিনিটে কর্নার থেকে আক্রমণ গড়ে বারের দিকে ক্রস বাড়ান নিকো উইলিয়ামস। সেখানে থাকা আইমেরিক লাপোর্তে হেড করেন গোল মুখে। বল নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন এমিলিয়ানো। আরও একবার সুযোগ হারায় স্পেন। ৮৬ মিনিটে বারের বাইরে বল পাঠিয়ে সুযোগ হারান ফেররান তোরেস।
যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে প্রথম আক্রমণে যায় আর্জেন্টিনা। তবে সুবিধা করতে পারেনি আর্জেন্টিনা। তৃতীয় মিনিটে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। পাউ কুবারসিকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখলেন এনজো ফের্নান্দেজ। ফলে লাল কার্ডের কারণে মাঠ ছাড়তে হয় আর্জেন্টিনা মিডফিল্ডারকে। আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা ভিএআর দেখার জন্য আবেদন করছেন। তবে তাতে সায় দেননি রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ। বিশ্বকাপ ফাইনালে লাল কার্ড দেখা ইতিহাসের ষষ্ঠ ফুটবলার এনজো।
পঞ্চম মিনিটে ডি বক্সের ঠিক বাইরে তরেসকে ফেলে দেন পারেদেস। ফ্রি কিক পায় স্পেন। লামিন ইয়ামালের নেয়া দারুণ ফ্রি কিক বাঁ দিকে ঝাপিয়ে ঠেকিয়ে দেন মার্টিনেজ। এরপর অতিরিক্ত সময়ের বাঁশি বাজান রেফারি। গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় মূল সময়।
৯৩ মিনিটে দারুণ আক্রমণে যায় স্পেন। পেদ্রির ক্রসে বল পেয়ে খুব কাছ থেকে হেড করেন নিকো উইলিয়ামস। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে আরও একটি সেভ দিয়ে দলকে বাঁচান এমিলিয়ানো।
৯৬ মিনিটে জালের দেখা পায় স্পেন। ইয়ামালের বাড়ানো বল পান মেরিনো। ওটামেন্ডির বাধা কাটিয়ে শট নেন তিনি, তবে মার্টিনেজ ঠেকিয়ে দেন। ফিরতি বল পেয়ে জালে জড়ান নিকো উইলিয়ামস। তবে মেরিনো ওটামেন্ডিকে ফাউল করায় রেফারি গোলটি বাতিল করেন। ভিএআর রেফারির সিদ্ধান্ত করে সমর্থন জানান। স্বস্তি ফিরে পায় আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর অতিরিক্ত ত্রিশ মিনিটেরও প্রথমার্ধের খেলাও শেষ হয় গোলশূন্য সমতায়।
একের পর এক আক্রমণের পর অবশেষে ১০৬ মিনিটে জালের দেখা পায় স্পেন। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে গিয়ে ডেডলক ভাঙেন ফেররান তোরেস। ডান পাশ থেকে আসা বল হেডে তোরেসের পায়ের সামনে দেন নিকো উইলিয়ামস। পরে বাম পায়ের শটে জাল কাঁপান তোরেস। ১১৩ মিনিটে আবারও আর্জেন্টিনার জালে বল জড়ান তোরেস। তবে অফসাইডের কারণে রক্ষা পায় আর্জেন্টিনা।
গোল হজমের পর শোধের জন্য মরিয়া উঠে আর্জেন্টিনা। বেশ কয়েকবার আক্রমণও করেছিল। তবে লাভ হয়নি। শেষ অবধি ১-০ গোলে জিতে ইতিহাস গড়ে লা-রোজারা।





