ঢাকা, ১১ মার্চ – রাজউকের প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে পাঁচটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি কারাগারে ছিলেন। এর আগে গত ৮ মার্চ চারটি মামলায় জামিন পেয়েছিলেন তিনি। সর্বশেষ এই মামলায় জামিন পাওয়ায় তার কারামুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।
বুধবার বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন এবং বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ দুদকের এই মামলায় তার জামিন আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে এ রায় দেন। আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, মোস্তাফিজুর রহমান খান, মোতাহার হোসেন সাজু এবং মোনায়েম নবী। অন্যদিকে দুদকের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী এম সারোয়ার হোসেন।
আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু জানান, বাকি মামলাগুলোতে আগেই জামিন হওয়ায় এখন তার মুক্তিতে আর বাধা নেই। তবে সরকার নতুন কোনো পদক্ষেপ নিলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।
এর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী হত্যা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে করা পৃথক চারটি মামলায় হাইকোর্টের অন্য একটি বেঞ্চ তাকে জামিন দিয়েছিলেন। নিম্ন আদালতে এসব মামলায় জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর তিনি হাইকোর্টে পৃথক পাঁচটি জামিন আবেদন করেন। প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করেছিলেন এবং বর্তমানে সবগুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হলো।
উল্লেখ্য, এ বি এম খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় প্রদান করেছিল, যার মাধ্যমে দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়।
এনএন/ ১১ মার্চ ২০২৬






