সাইফুল ইসলাম : মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ খাল, নদী ও ফসলি জমির আশপাশে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। দিনরাত ড্রেজার চালিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে নদীতীরবর্তী জনপদ, বসতভিটা ও আবাদি জমি ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
রোববার বিকেলে উপজেলার চকমিরপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর এলাকায় কালীগঙ্গা নদীতে সরেজমিনে গিয়ে দুটি ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করতে দেখা যায়। নদীর একপাড় থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা হলেও অপর পাড়ে ইতোমধ্যে ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনের কবলে পড়েছে নদীর পাশের ফসলি জমিও।
সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর পাশের চরে ২০ থেকে ২৫ জন কিশোর খেলছিল। তাদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে স্থানীয় ড্রেজার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নাম জানা যায়। তারা জানান, রামচন্দ্রপুর এলাকায় একটি ড্রেজারের মালিক স্থানীয় শরীফ মাহমুদ ও রনি এবং অপর ড্রেজারটির মালিক মাহফুজুল হক খান সোহেল।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, চেয়ারম্যান প্রার্থী সোহেল প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তি ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে ড্রেজার ব্যবসা পরিচালনা করছেন।্এরআগে উপজেলা চত্বরে বিনামূল্যে কয়েকশ গাড়ি মাটি ফেলে দেওয়ার মাধ্যমে তিনি প্রশাসনের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
অন্যদিকে শরীফ মাহমুদ ও রনি স্থানীয় এক নেতার ছত্রছায়ায় থেকে অবাধে ড্রেজার ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বিভিন্ন সময়ে তাদের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তারা।
স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আখের আলী বলেন, রামচন্দ্রপুর এলাকায় একটি ড্রেজারের মালিক শরীফ ও রনি এবং অপরটির মালিক চেয়ারম্যান প্রার্থী মাহফুজুল হক খান সোহেল। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের একটি ভিডিও পোস্ট করে তিনি এসব ড্রেজার ব্যবসা বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী মাহফুজুল হক খান সোহেল। মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘আমার কোনো ড্রেজার নেই। আমি এই ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত নই।’
অভিযোগের বিষয়ে ড্রেজার ব্যবসায়ী শরীফ মাহমুদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিলভিয়া স্নিগ্ধা বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আপনার মাধ্যমেই অবগত হলাম। শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

