পথের সঙ্গে জীবনের মিল খোঁজার চেষ্টা করেন অনেকে, রূপক অর্থে। আর করবেনই বা না কেন, জীবন যেমন অনিশ্চিত, পথও এক অনিশ্চিত জায়গা। যে কোনো সময় ঘটে যেতে পারে অপ্রত্যাশিত কিছু। জীবনের প্রয়োজন, আকাঙক্ষা একজনকে কখন, কোথায়, কীভাবে নিয়ে যায় কে বলতে পারে। আবার, এই পথেই এমন সব ঘটনা ঘটে যায়, যা একজের জীবন বদলে দিতে পারে।
এমনই কিছু ঘটনা সাজিয়ে গল্প বলতে আসছেন জনপ্রিয় নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিম। তার নতুন নির্মাণের নাম ‘পথের প্যাঁচাল’। চরকি ফ্ল্যাশ ফিকশন হিসেবে এটি মুক্তি পেতে যাচ্ছে ৬ মে রাত ১২টায় (৭ মে)।
‘পথের প্যাঁচাল’–এ অভিনয় করেছেন নির্মাতার ‘স্বপ্নজাল’-এর অভিনেতা ইয়াশ রোহান। এছাড়াও অভিনয় করছেন বহ্নি হাসান, মনির হাসান খান শিমুল, অশোক বেপারী, প্রনব ঘোষ, সানজিদা ইয়াসমিন স্নিগ্ধা প্রমুখ।
এরইমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে ‘পথের প্যাঁচাল’ এর পোস্টার! এই নামটি শুনলেই মনে আসে কিংবদন্তী চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘পথের পাঁচালী’ এর কথা। গল্পে বা ভাবনায় কোনো অনুপ্রেরণা আছে কি? নির্মাতা নিশ্চিত করেছেন, শব্দ দুটি শুধু শুনতেই কাছাকাছি। এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপটের গল্প।
তাহলে প্রেক্ষাপটটা কী? জানতে চাইলে গিয়াস উদ্দিন সেলিম জানান, বায়েজিদ একজন অটো রিকশাচালক, যার প্রতিদিনের জীবন রিকশার প্যাডেলে ঘুরে চলে। তার জীবনে অপ্রত্যাশিতভাবে জড়িয়ে যান উমা। তিনি একজন নবীন উপন্যাসিক, নিজের প্রথম উপন্যাস প্রকাশের চেষ্টা করছে সে। এমন দুই ভিন্ন প্রেক্ষাপটের চরিত্রের মাধ্যমে এগিয়ে যাবে গল্প। ভিন্ন সামাজিক অবস্থানের এই দুই মানুষের মধ্যকার আন্তঃসম্পর্ক ও কথোপকথনই ‘পথের প্যাঁচাল’-এর মূল উপজীব্য।
গিয়াস উদ্দিন সেলিম বলেন,“জীবন মানেই এক দীর্ঘ পথ এবং এই পথে তৈরি হয় অসংখ্য গল্প। এই ফিকশনে কিছু বিষয় অন্য দৃষ্টিতে দেখার চেষ্টা করেছি। এখানে দুই শ্রেণির দুই মানুষের কথা আছে। শ্রেণি আলোচনা ও অনুভূতির বয়ান রয়েছে। অনেকে একে ‘অসম’ কিছু একটা ভাবতে পারেন, তবে আমি একে বলব সহজ-সরল সম্পর্ককে মানবিকভাবে দেখার চেষ্টা। সামাজিক ট্যাবুর বাইরে গিয়ে সম্পর্কের এক মানবিক রূপ এখানে ফুটে উঠবে।”
‘পথের প্যাঁচাল’– এ বায়েজিদ চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইয়াশ রোহান আর বহ্নি হাসান অভিনয় করেছেন উমা চরিত্রে। শিপ্রা দেবনাথের গল্পে ‘পথের প্যাঁচাল’–এর চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন গিয়াস উদ্দিন সেলিম। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আলফা–আই এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকি–এর যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছে এটি।
ফ্ল্যাশ ফিকশন মূলত জীবনের কিছু মুহূর্তের নান্দনিক বা সিনেম্যাটিক বর্ণনা। এটাকে স্লাইস অফ লাইফও বলা যেতে পারে। ব্যাপ্তির দিক থেকেও ফ্ল্যাশ ফিকশন ছোট। চরকি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন যে, ফ্ল্যাশ ফিকশন চরকির অরিজিনাল কনটেন্ট না।






