সমস্যা নয়: পরিচালনা নির্দেশিকা নেই
একটি ব্যারাজ একবার নির্মাণ হলে সেটি ৫০ থেকে ১০০ বছর চলবে। কিন্তু কীভাবে পরিচালিত হবে, সেটাই নির্ধারণ করবে প্রকল্পটি সুবিধা দেবে নাকি ক্ষতি করবে। বর্ষার শুরুতে পলি ব্যবস্থাপনা মোড, বর্ষার শেষে মজুত মোড, শীতকালে পরিবেশগত প্রবাহ মোড, চরম খরায় জরুরি মোড এবং অতিবন্যায় পানি পারাপার মোড, এই পাঁচটি ভিন্ন পরিস্থিতিতে গেটগুলো কীভাবে চলবে, কে সিদ্ধান্ত নেবে, কোন তথ্যের ভিত্তিতে নেবে, সেই বৈজ্ঞানিক পরিচালনা নির্দেশিকা রিপোর্টে নেই। পরিচালনা নির্দেশিকা ছাড়া একটি ব্যারাজ মানে হাতিয়ার আছে, কিন্তু ব্যবহারের নিয়ম নেই।
সমস্যা দশ: অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে শুধু সুবিধা আছে, ঝুঁকি নেই
রিপোর্টে কৃষি, সেচ, জলবিদ্যুৎ ও নৌপরিবহনের সুবিধার হিসাব আছে। কিন্তু পলি জমার ফলে উজানে দীর্ঘমেয়াদি খনন ব্যয়, বন্যার ক্ষতিপূরণ, পাড়ভাঙনের ক্ষতি এবং পরিবেশ ক্ষতির অর্থনৈতিক মূল্যের কোনো হিসাব নেই। একটি পূর্ণাঙ্গ বিনিয়োগ মূল্যায়নে সুবিধা ও ঝুঁকি দুটোই থাকে। যে মূল্যায়নে কেবল সুবিধা আছে, সেটা বিশ্লেষণ নয়, প্রচার। ২০১২ সালে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩১,৪১৪ কোটি টাকা। এখন সেটা ৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। মূল খরচ ৬০ শতাংশ বাড়লে সুবিধার হিসাবও নতুন করে করতে হয়। সেটা হয়নি।




