
ছবি: সংগৃহীত
অর্থপাচারের অভিযোগে তদন্তের মধ্যে ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পাসপোর্ট বাতিল হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত ডানপন্থী প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো। তবে পাসপোর্ট বাতিলের পর কীভাবে তিনি ব্রাজিল ছেড়েছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ছোট ভাই এদুয়ার্দো বলসোনারোর সঙ্গে দেখা করেছেন ফ্লাভিও। তবে তিনি কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন, তার সঙ্গে আর কেউ ছিলেন কি না কিংবা সেখানে স্থায়ীভাবে থাকার পরিকল্পনা করছেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সোমবার ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট অর্থপাচারের অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে ফ্লাভিওকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশের কাছে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাসপোর্ট জমা না দেওয়ায় মঙ্গলবার সেগুলো বাতিল করা হয়। এরপর তার দেশত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
এর আগে ফ্লাভিও জানিয়েছিলেন, দেশ ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা তার নেই। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার বিরুদ্ধে বিরোধী দলের নেতৃত্ব দিতে তিনি ব্রাজিলেই থাকবেন বলে জানিয়েছিলেন।
পাসপোর্ট জমা দেওয়ার সময়সীমা পার হওয়ার পর ফ্লাভিওর আইনজীবীরা সংবাদমাধ্যমকে জানান, তার অবস্থান সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না। তাদের একজন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানতাম না। কী ঘটেছে, সে সম্পর্কেও এখনো আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।’
স্থানীয় সময় সোমবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশের পর থেকে ফ্লাভিওকে আর প্রকাশ্যে কোনো বিবৃতি দিতে দেখা যায়নি। তিনি প্রতিবেশী আর্জেন্টিনায় গেছেন কি না, তা জানতে দেশটির সীমান্তগুলোতে খোঁজ নেয় ব্রাজিলের ফেডারেল পুলিশ। তবে আর্জেন্টিনার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোনো সীমান্ত দিয়ে ফ্লাভিওর দেশটিতে প্রবেশের রেকর্ড নেই।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফ্লাভিও ও তার পরিবারের সদস্যদের ভিসা দেওয়া এবং তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লুলা দা সিলভার কাছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে হেরে যান ফ্লাভিও। লুলা ৫১ দশমিক ৭৯ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন। ফ্লাভিও পান ৪৮ দশমিক ২১ শতাংশ ভোট। পরাজয়ের পর তিনি নির্বাচনের ফল বাতিলের দাবি জানান এবং ভোটগ্রহণের সময় বাড়ানোকে ‘চক্রান্ত’ বলে অভিযোগ করেন।
ফ্লাভিওর দল লিবারেল পার্টি নির্বাচনের ফল মেনে নিলেও ভোটগ্রহণের সময় বাড়ানোর বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে ফ্লাভিওর বিরুদ্ধে অর্থপাচার ও অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে এগুলোকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে দাবি করেছেন।
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…




