পর্তুগালে ৩০ মিলিয়ন ইউরোর মানি লন্ডারিং চক্রের সদস্য আটক | চ্যানেল আই অনলাইন

পর্তুগালে ৩০ মিলিয়ন ইউরোর মানি লন্ডারিং চক্রের সদস্য আটক | চ্যানেল আই অনলাইন

পর্তুগালে পুলিশের এক সমন্বিত অভিযানে প্রায় ৩০ মিলিয়ন ইউরোর মানি লন্ডারিং চক্রের সন্ধান মিলেছে। দেশের অপরাধ তদন্ত সংস্থা পরিচালিত এই অভিযানে অন্তত ১৫ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অভিযানে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, বিলাসবহুল গাড়ি, ব্যাংক কার্ড ও বিভিন্ন নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে।

তদন্তকারীরা বলছেন, এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় মানি লন্ডারিংবিরোধী অভিযান।

পর্তুগালের বিভিন্ন অঞ্চলে একযোগে তল্লাশি চালিয়ে একটি সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক মানি লন্ডারিং নেটওয়ার্কের কার্যক্রম ভেঙে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই অভিযানে প্রায় ২০০-এর বেশি পুলিশ সদস্য অংশ নেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযানের সময় রাজধানী লিসবনসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৪০টিরও বেশি স্থানে তল্লাশি চালানো হয়। এসব অভিযানে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বাসা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য ও নথিপত্র জব্দ করা হয়।

তদন্তকারীদের মতে, এই অপরাধচক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ভুয়া বা অস্থায়ী কোম্পানি ব্যবহার করে বিপুল অঙ্কের অবৈধ অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ঘুরিয়ে “সাদা” করার কাজ করছিল। এসব লেনদেনের মাধ্যমে প্রায় ৩০ মিলিয়ন ইউরোর বেশি অর্থ বিভিন্ন দেশে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চক্রটি মূলত “মানি মিউল” নামে পরিচিত ব্যক্তিদের ব্যবহার করত। এ ধরনের ব্যক্তিরা নিজেদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অপরাধীদের হাতে তুলে দিত বা তাদের হয়ে অর্থ লেনদেন করত। এর বিনিময়ে তারা কমিশন বা নির্দিষ্ট পরিমাণ পারিশ্রমিক পেত। তদন্তে জানা গেছে, কিছু ক্ষেত্রে এসব ব্যক্তিকে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার থেকে দেড় হাজার ইউরো পর্যন্ত পারিশ্রমিক দেওয়া হতো।

পুলিশ জানায়, এই নেটওয়ার্কের কার্যক্রম শুধু পর্তুগালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। স্পেন ও ফ্রান্সসহ ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে এই চক্রের যোগাযোগ ছিল। তদন্তে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছিল এবং এতে ইউরোপীয় আইনশৃঙ্খলা সংস্থা Europol গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

অভিযানের সময় প্রায় দুই লাখ বিশ হাজার ইউরো নগদ অর্থ, কয়েকটি বিলাসবহুল গাড়ি, বহু ব্যাংক কার্ড, কম্পিউটার, মোবাইল ফোন এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে। এসব আলামত এখন তদন্তের অংশ হিসেবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং, জালিয়াতি, সংগঠিত অপরাধে অংশগ্রহণসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হতে পারে। আদালতের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রগুলো বর্তমানে প্রযুক্তি ও আর্থিক ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে দ্রুতগতিতে অবৈধ অর্থ স্থানান্তর করছে। তাই এসব অপরাধ দমনে বিভিন্ন দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

পর্তুগালের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, এই অভিযান সংগঠিত আর্থিক অপরাধের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অগ্রগতি। তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও গ্রেপ্তার বা নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।