পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু প্রতিরোধে টেকসই অর্থায়নের আহ্বান | চ্যানেল আই অনলাইন

পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু প্রতিরোধে টেকসই অর্থায়নের আহ্বান | চ্যানেল আই অনলাইন

দেশে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু প্রতিরোধ কার্যক্রমকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করতে সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি বেসরকারি খাত, স্থানীয় সরকার, উন্নয়ন সহযোগী ও গণমাধ্যমের সমন্বিত অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

রোববার রাজধানীর ডেইলি স্টার সেন্টারে সমষ্টি মিডিয়া কমিউনিকেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এবং গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত ‘পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু প্রতিরোধ ও শিশু সুরক্ষায় টেকসই অর্থায়ন’ শীর্ষক অংশীজন সংলাপে এ আহ্বান জানানো হয়।

সংলাপে সমষ্টির নির্বাহী পরিচালকমীর মাসরুর জামান বলেন, দেশে প্রতিদিন গড়ে ৪০ জন শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। অধিকাংশ দুর্ঘটনা সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে ঘটে, যখন শিশুরা পর্যাপ্ত তত্ত্বাবধানে থাকে না। তাই নিরাপদ তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করাই ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধের অন্যতম কার্যকর উপায়।

সমষ্টির গবেষণা ও যোগাযোগ পরিচালক রেজাউল হক জানান, জাতীয় কর্মপরিকল্পনায় ২০৩০ সালের মধ্যে ডুবে মৃত্যু ৫০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য রয়েছে। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে সুস্পষ্ট বাজেট, অর্থায়ন কাঠামো ও ব্যয় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা প্রয়োজন।

তিনি জানান, ১৬ জেলায় বাস্তবায়িত আইসিবিসি প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কাজী মারুফুল ইসলাম বলেন, ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধকে প্রকল্প নয়, স্থায়ী সামাজিক সেবা হিসেবে দেখতে হবে। এ কার্যক্রমে স্থানীয় সরকারকে সম্পৃক্ত করার ওপর তিনি জোর দেন।

অর্থ বিভাগের উপসচিব জামিরা শবনম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার, স্থানীয় সরকার ও অন্যান্য অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক রিয়াজ আহমদ বলেন, চলমান প্রকল্প বন্ধ না করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে তা সম্প্রসারণ এবং তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা উচিত।

ফ্যাশন হাউজ সাদাকালোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজহারুল হক আজাদ বলেন, পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যম ও বেসরকারি খাতকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান নগদের হেড অব মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন জাহিদুল ইসলাম সজল বলেন, করপোরেট খাতকে সম্পৃক্ত করতে বিষয়টির সামাজিক গুরুত্ব তুলে ধরা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো প্রয়োজন।

চর্চা ডটকমের সম্পাদক সোহরাব হাসান বলেন, ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক উদ্যোগ আরও জোরদার করতে হবে।

বক্তারা বলেন, ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে সরকারি অর্থায়ন হবে মূল ভিত্তি। তবে কার্যক্রমের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর), স্থানীয় সরকার, উন্নয়ন সহযোগী ও বেসরকারি খাতকে সম্পূরক অংশীদার হিসেবে যুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বাজেট, স্থানীয় পর্যায়ের সম্পৃক্ততা এবং স্বচ্ছ অর্থায়ন ও প্রতিবেদন ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।