পারস্য উপসাগরে মার্কিন নজরদারি ড্রোন বিধ্বস্ত, ২৩৮ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি

পারস্য উপসাগরে মার্কিন নজরদারি ড্রোন বিধ্বস্ত, ২৩৮ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি

ইরানের সঙ্গে নাজুক যুদ্ধবিরতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী স্বীকার করেছে, পারস্য উপসাগর এলাকায় তাদের একটি অত্যাধুনিক নজরদারি ড্রোন হারিয়ে গেছে। ‘এমকিউ-৪সি ট্রাইটন’ নামের এই ড্রোনটি সম্প্রতি হরমুজ প্রণালির আকাশে বিধ্বস্ত হয়। প্রায় ২৩৮ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই ড্রোন হারানোকে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, কৌশলগত দিক থেকেও বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে পারস্য উপসাগরের আকাশে একটি দুর্ঘটনায় এই উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ড্রোনটি হারিয়ে যায়। ইরানের সঙ্গে সংবেদনশীল পরিস্থিতির মধ্যেই এ ঘটনা ঘটায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর নিরাপত্তা বিভাগ জানায়, ড্রোনটি ৯ এপ্রিল বিধ্বস্ত হয়েছে। ঘটনাটিকে ‘ক্লাস এ দুর্ঘটনা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা সম্পূর্ণ উড়োজাহাজ হারানোর ঘটনা বোঝায়।

ঘটনার দিন ড্রোনটি নিয়মিত নজরদারি অভিযানে ছিল। প্রায় তিন ঘণ্টা আকাশে থাকার পর ইতালির একটি নৌঘাঁটিতে ফেরার পথে এটি হঠাৎ জরুরি সংকেত পাঠাতে শুরু করে। পরে ফ্লাইট তথ্য অনুযায়ী দেখা যায়, প্রায় ৫০ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে এটি দ্রুত নিচে নেমে যায় এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

এই ড্রোনটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা খাতের একটি প্রতিষ্ঠানের তৈরি, যা দীর্ঘ সময় সমুদ্র এলাকায় নজরদারির জন্য ব্যবহৃত হয়। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির কারণে এটিকে অনেক সময় ‘ডানা-ওয়ালা উপগ্রহ’ও বলা হয়।

এখন পর্যন্ত এই দুর্ঘটনার জন্য কোনো শত্রুপক্ষকে দায়ী করা হয়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ড্রোনটির ধ্বংসাবশেষ কোনো প্রতিপক্ষের হাতে পড়ে, তাহলে তা বড় ধরনের গোয়েন্দা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত চালাচ্ছে এবং পারস্য উপসাগর অঞ্চলের পরিস্থিতির ওপর সতর্ক নজর রাখছে।