২১ অক্টোবর, বুধবার। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে দেখা দিল অস্বাভাবিক অচলাবস্থা। বাংলাদেশসহ জার্মানি, ফ্রান্স, ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম ও চেক প্রজাতন্ত্রের একাধিক সরকারি ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হলো। জাপানের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক সংস্থাও কিছু অনলাইন সেবা সীমিত করল। যুক্তরাজ্যের বিবিসি বন্ধ রাখল কয়েকটি ওয়েব পোর্টাল। উইকিপিডিয়ার পরিচালনাকারী উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশনও নিরাপত্তার স্বার্থে নিজেদের কয়েকটি সিস্টেম সাময়িকভাবে নামিয়ে নিল। বাংলাদেশেও এর বাইরে রইলো না। নিরাপত্তা শঙ্কায় ভূমিসেবার সরকারি ওয়েবসাইটসহ বাংলাদেশ ব্যাংক, সরকারি ও বেসরকারি কয়েকটি ব্যাংক, বেসরকারি হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ডাউন করে রাখা হলো। কোথাও পুরো ওয়েবসাইট বন্ধ, কোথাও কেবল কিছু সেবা বন্ধ রাখা হলো। এসবের পেছনে ছিল একটি অভিন্ন কারণ—পিএইচপি নামে বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষার দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি।
বিষয়টি এমন নয় যে হ্যাকাররা এর মধ্যেই এসব প্রতিষ্ঠানের সব ওয়েবসাইটে ঢুকে পড়েছিল। অনেক ক্ষেত্রেই ওয়েবসাইটগুলো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। কারণ, ত্রুটি দুটির সুযোগ নিয়ে আক্রমণকারীরা চাইলে সার্ভারে নিজেদের কোড চালাতে পারত। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি এবং যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টার দ্রুত নিরাপত্তা হালনাগাদের পরামর্শ দেয়। যেসব সিস্টেম দ্রুত নিরাপদ করা সম্ভব নয়, সেগুলো সাময়িকভাবে অফলাইনে রাখার সুপারিশও করা হয়।
কিন্তু একটি প্রোগ্রামিং ভাষার ত্রুটির কারণে এত প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট একসঙ্গে বন্ধ রাখতে হবে কেন? উত্তর লুকিয়ে আছে আধুনিক ইন্টারনেটের অবকাঠামোয়।




