
কেউ গানের সুরে মাতিয়েছে, কেউ মুগ্ধ করেছে পুঁথি পাঠ, নাচ কিংবা চিত্র প্রদর্শনীতে। কেউ আবার বিজ্ঞান ও গণিতের নানা প্রকল্প উপস্থাপন করে দেখিয়েছে নিজের মেধা ও সৃজনশীলতা। ছিল কুইজ প্রতিযোগিতাতেও প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ।
আর শিশুদের উৎসাহ দিতে পাশে ছিলেন রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী অদিতি মহসিন ও নজরুলসংগীতশিল্পী রেবেকা সুলতানার মতো গুণীজনেরা।
সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মেধা, সৃজনশীলতা ও প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার আগারগাঁওয়ে ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ (আইএবি) সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী ‘আগামী ফেস্ট ২০২৬’। ‘সব শিশুদের জন্য শিক্ষা’ প্রতিপাদ্যে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আয়োজিত এ উৎসবে অংশ নেয় আগামী বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরা।
উৎসবে শিশুদের জন্য ছিল গান, নাচ, পুঁথি পাঠ, চিত্র প্রদর্শনী, কুইজ প্রতিযোগিতাসহ নানা আয়োজন। পাশাপাশি বিজ্ঞান ও গণিত মেলায় নিজেদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও মেধার পরিচয় দেয় শিক্ষার্থীরা। মেলায় ১৪টি বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প উপস্থাপন করে তারা।
শিক্ষার্থীদের উপস্থাপিত প্রকল্প ও শিল্পকর্ম মূল্যায়ন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা। এ সময় তারা শিশুদের সঙ্গে মতবিনিময়ও করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আগামী এডুকেশন ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক নেহরীন মাজেদ এবং আগামী ইনকর্পোরেটেড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মো. আমিনুল ইসলাম। বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীব রসায়ন ও আনবিক জীববিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. জেবা ইসলাম সিরাজ।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন ও চিত্রশিল্পী রশীদ আমিন (ড. বজলুর রশীদ খান), স্থপতি ও শিশুতোষ ম্যাগাজিন ‘টইটম্বুর’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা হাসনাইন সাবিহ নায়েকসহ অনেকে।
উৎসবে ‘আগামী’ ম্যাগাজিনের প্রকাশনা উদ্বোধন করেন আগামী এডুকেশন ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট নাফিসা খানম। ম্যাগাজিনটিতে সংস্থাটির পথচলা, বিভিন্ন কার্যক্রম ও অর্জনের পাশাপাশি শিশু ও বিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে তাদের কাজের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে।
আয়োজকরা জানান, সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া শিশুদের শিক্ষার সুযোগ তৈরি এবং তাদের মেধা ও সম্ভাবনা বিকাশে কাজ করছে ‘আগামী’। সেই কাজের অংশ হিসেবেই ‘আগামী ফেস্ট’-এর আয়োজন। এখানে শিশুদের শুধু দর্শক হিসেবে নয়, বরং উৎসবের সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
আয়োজকদের ভাষ্য, “আমাদের সঙ্গে যুক্ত অনেক শিশু সুবিধাবঞ্চিত পরিবার থেকে আসে। কিন্তু সুযোগ পেলে তাদের মেধা, সৃজনশীলতা ও সম্ভাবনাও সমানভাবে বিকশিত হতে পারে। এই উৎসবের মাধ্যমে আমরা তাদের সেই সুযোগ করে দিতে চাই এবং তাদের অর্জন ও প্রতিভাকে সবার সামনে তুলে ধরতে চাই।”
অধ্যাপক জেবা ইসলাম সিরাজ বলেন, “আমাদের অনেক শিশু আছে, যারা সমাজের সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাদের কেউ কেউ খুবই মেধাবী। তাদের মেধার বিকাশের জন্য আমাদের সকলকে কাজ করে যেতে হবে।”
শিশুদের সঙ্গে এমন আয়োজনে যুক্ত হতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেন রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী অদিতি মহসিন। তিনি বলেন, “শিশুদের সৃজনশীলতার বিকাশের জন্য এই আয়োজনে যুক্ত হতে পেরে ভালো লাগছে। আগামী শিশুদের নিয়ে যে কাজটি করে যাচ্ছে, এটি আসলে আমাদের সবার দায়িত্বটিই তারা পালন করছেন।”
পরে খালি গলায় ‘ও আমার দেশের মাটি’ গানটি গেয়ে শোনান অদিতি মহসিন।
নজরুলসংগীতশিল্পী রেবেকা সুলতানাও শিশুদের প্রতিভা দেখে মুগ্ধতার কথা জানান। তিনি বলেন, “শিশুরা কত রকম প্রতিবন্ধকতার মধ্যে থেকেও নিজেকে বিকশিত করার জন্য চেষ্টা করছে, তা দেখে আমি অভিভূত।”
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
