কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণ করা হবে—সিটি করপোরেশনের এমন চেনা প্রতিশ্রুতি এবারও ঢাকাবাসী শুনেছিল। সরকারের ঘোষণা ছিল ১২ ঘণ্টার মধ্যে শহর পরিষ্কার করার, আর দুই সিটির প্রশাসকেরা তো আরও এক ধাপ এগিয়ে ৮ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্যমুক্ত মহানগরী উপহার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু উৎসবের পরদিন রাজধানীর চিত্র থেকে উঠে আসে, সেই প্রতিশ্রুতি কেবল বাগাড়ম্বর বা কথার কথা হিসেবেই রয়ে গেছে। কাজ শেষ করার সময়সীমা পার হয়ে গেলেও ঢাকার অলিগলি থেকে শুরু করে প্রধান সড়ক—অনেক স্থানেই রয়ে গেছে কোরবানির উচ্ছিষ্ট ও জমাটবদ্ধ রক্ত।
প্রথম আলোতে প্রকাশিত খবর ও সরেজমিন চিত্র বলছে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অন্তত ২৯টি স্পটে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত পশুর বর্জ্য স্তূপ হয়ে পড়ে ছিল। মিরপুর, সেনপাড়া, বেগম রোকেয়া সরণি থেকে শুরু করে গুলশান-বনানীর মতো অভিজাত এলাকা কিংবা পুরান ঢাকার নাজিরাবাজার ও বকশীবাজার—সর্বত্রই বর্জ্য ও পশুর উচ্ছিষ্টের দৃশ্য চোখে পড়েছে। বিশেষ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক যখন আগের রাতেই দাবি করেছেন যে ৭১টি ওয়ার্ড ‘শতভাগ’ বর্জ্যমুক্ত হয়েছে, তখন পরের দিন সকালে ওই সব ওয়ার্ডেই বর্জ্যের ছড়াছড়ি কর্তৃপক্ষের তথ্যের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে।



