শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, পাবলিক পরীক্ষার কারণে সাধারণ পাঠদান যাতে ব্যাহত না হয়, সেজন্য দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে আধুনিক ‘মাল্টিপারপাস পরীক্ষা কেন্দ্র’ নির্মাণ করবে সরকার।
আজ ১৫ এপ্রিল বুধবার কালে সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড আয়োজিত আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে সিলেট অঞ্চলের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বিদ্যমান পরীক্ষা পদ্ধতির কারণে শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে মূল্যবান দু’টি বছর ঝরে যাচ্ছে, যা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অর্জনে বড় বাধা।
শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন বলেন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। আমরা শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, বরং শিক্ষার গুণগত মান ও সংস্কারে গুরুত্ব দিচ্ছি। প্রতিটি ক্লাসরুমে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে যাতে পাঠদানের মান নিশ্চিত করা যায়। আমি সংসদ সদস্যদের অনুরোধ করব, আপনারা নিজ নিজ এলাকার স্কুলের সিসি ক্যামেরা কোড নিয়ে স্মার্টফোনের মাধ্যমেই তদারকি করুন।
শিক্ষক সংকট ও নিয়োগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকের ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক পদের মামলা জটিলতা নিরসনের চেষ্টা চলছে। খুব দ্রুতই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে। এছাড়া অবসরপ্রাপ্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের নিয়ে একটি ‘পুল’ গঠন করা হচ্ছে, শিক্ষক সংকট থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে তাদেরকে পার্ট-টাইম শিক্ষক হিসেবে কাজে লাগানো হবে।
এসময় মন্ত্রী পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে শিক্ষকদের আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান। নকলের বর্তমান ধরণ সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি বলেন, এখন আর আগের মতো সনাতন পদ্ধতিতে নকল হয় না, এখন ডিজিটাল নকলের ভ্যারিয়েন্ট এসেছে। শিক্ষক যদি ক্লাসে না পড়ান, তবেই শিক্ষার্থীরা নকলের আশ্রয় নেয়। তাই মানসম্মত শিক্ষার মাধ্যমেই এই ব্যাধি দূর করতে হবে।




