প্রথম প্রধানমন্ত্রীর ছবি ছাড়া আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান | চ্যানেল আই অনলাইন

প্রথম প্রধানমন্ত্রীর ছবি ছাড়া আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান | চ্যানেল আই অনলাইন

বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা ২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানের হলরুম, মঞ্চের ব্যাকড্রপসহ কোথাও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করা হয়নি। দেশে এই প্রথম অনুষ্ঠিত হলো প্রধানমন্ত্রীর ছবি ছাড়া কোন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান। এ ধরনের উপস্থাপনাকে একটি নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ১০টায় রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই প্রথমবারের মত প্রধানমন্ত্রীর ছবি ছাড়া এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “একটি সন্তান পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করলে, আসুন আমরা একটি করে গাছ লাগানোর মধ্য দিয়ে প্রতিটি প্রাণের জন্মকে উদযাপন করি, স্মরণীয় করে রাখি। একজন নবজাতকের পাশাপাশি একটি গাছও বেড়ে উঠুক। এভাবেই এগিয়ে যাক সবুজায়নের সামাজিক আন্দোলন।”

ছবি: বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা ২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি আরও বলেন, “নতুন বৃক্ষরোপণ অবশ্যই জরুরি, তবে রোপিত গাছ নিরাপদে বেড়ে উঠছে কি না, তা নিশ্চিত করা তার চেয়েও বেশি জরুরি। একই সঙ্গে যুগ যুগ ধরে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের অংশ হয়ে থাকা বিদ্যমান গাছ সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে হবে।”

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত এখন আর ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কার বিষয় নয়; বরং এটিই আমাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা। উন্নয়ন ও পরিবেশকে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নয়, বরং প্রকৃতির সঙ্গে সম্প্রীতি বজায় রেখেই উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে।”

ছবি: বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা ২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণই একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ বাংলাদেশ গঠনের ভিত্তি। আসুন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা সবাই বৃক্ষরোপণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখি।”

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পরিবেশ পদক ২০২৫, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার ২০২৬ এবং বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার ২০২৫ প্রদান করেন। এছাড়া সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীদের মাঝে লভ্যাংশের চেক বিতরণ করেন।

ছবি: বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা ২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে স্মারক হিসেবে একটি করে জলপাই, জারুল ও নিমগাছের চারা রোপণ করেন। এরপর তিনি পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে আয়োজিত বৃক্ষমেলা ও পরিবেশ মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।

ছবি: বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা ২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এ দেশে বৃক্ষরোপণকে সর্বপ্রথম একটি রাষ্ট্রীয় আন্দোলনে রূপ দেন এবং ১৯৭৯ সালে প্রথম জাতীয় বননীতি প্রণয়ন করেন। পরবর্তীকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৪ সালে জাতীয় বৃক্ষমেলার ঐতিহাসিক যাত্রার সূচনা করেন এবং অংশীদারিত্বমূলক সামাজিক বনায়নের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার প্রযুক্তি ও প্রকৃতির সমন্বয়ে একটি টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে।

ছবি: বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা ২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

উল্লেখ্য, ঢাকায় পরিবেশ মেলা ও মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলার পাশাপাশি দেশের ৭টি বিভাগীয় সদরে ১৫ দিনব্যাপী, ৫৬টি জেলা সদরে ৭ দিনব্যাপী এবং ২৯টি উপজেলায় ৩ দিনব্যাপী বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হয়েছে।

বর্তমান সরকার একটি সবুজ, জলবায়ু-সহনশীল, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণকে সমান গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের এক যুগান্তকারী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এটি কেবল একটি সরকারি কর্মসূচি নয়, বরং একটি জাতীয় আন্দোলন।

ছবি: বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা ২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃক্ষরোপণের এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় জিআইএস, রিমোট সেন্সিং, ন্যাশনাল ট্রি ডাটাবেজ এবং ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বনায়ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে। এর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে ৩ দশমিক ৫ লক্ষাধিক নতুন ‘সবুজ কর্মসংস্থান’ সৃষ্টি হবে এবং ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ে উঠবে।

উল্লেখ্য, গত ৫ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক পরিপত্রে সরকারি কোনো অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ব্যবহার না করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। সেই ধারাবাহিকতায় আজ প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করা হয়নি।

ওই পরিপত্রে বলা হয়, সরকারি অনুষ্ঠানের জন্য তৈরি কোনো ব্যানার, ফেস্টুন বা বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি থ্রিডি বা অন্য কোনো আঙ্গিকে ব্যবহার করা যাবে না। সরকারি অনুষ্ঠানের প্রচারসামগ্রী এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে, যাতে অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু, প্রয়োজনীয় তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট বার্তা স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। নকশা তৈরির সময় প্রচারের মূল উদ্দেশ্য ও বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই অনুষ্ঠান সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পান।