
ঢাকা, ৪ আগস্ট – প্রধানমন্ত্রী, বিভিন্ন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সিল, সই এবং অফিশিয়াল লেটারহেড জালিয়াতি করে প্রতারণার অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
মঙ্গলবার রাজধানীর মিন্টো রোডে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন মো. ফারুক হোসেন, সাকিব খান, মাসুম মুনসী, মীর তৌহিদুল ইসলাম ও মো. বকুল মণ্ডল।
অভিযানে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নামে তৈরি ৪১টি জাল সিল এবং সংসদ সদস্য ও সচিবদের অফিশিয়াল লেটারহেড প্যাডের ছয়টি বান্ডিল উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত আটটি মোবাইল ফোন, দুটি কম্পিউটার ও একটি ল্যাপটপ জব্দ করেছে ডিবি।
তদন্তের বরাত দিয়ে ডিবির এই কর্মকর্তা জানান, চক্রটি সম্প্রতি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর কাছে একটি ভুয়া সুপারিশপত্র পাঠায়। ওই চিঠিতে একজন চাকরিচ্যুত কর্মচারীকে পুনরায় চাকরিতে বহাল করার অনুরোধ করা হয়েছিল। চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীসহ চারজন মন্ত্রী ও দুইজন যুগ্ম সচিবের জাল সই ব্যবহার করা হয়।
বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় মন্ত্রী গোয়েন্দা পুলিশকে তদন্তের অনুরোধ জানান। এরপর ডিবি সাইবার দক্ষিণ টিম মাদারীপুর ও কুষ্টিয়া জেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।
শফিকুল ইসলাম আরও জানান, চক্রটি প্রধানমন্ত্রীর প্রোটোকল অফিসার উজ্জ্বলের নাম ও ছবি ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চাপ সৃষ্টি করেছিল।
চক্রের মূল হোতা ফারুক হোসেন একজন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার। তিনি ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন। দুর্নীতির দায়ে চাকরি হারানোর পর তিনি এই জালিয়াতি ও প্রতারণার পথে পা বাড়ান।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেছেন যে তারা মালদ্বীপে জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে একটি ভুয়া কোম্পানিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্যও ভুয়া সুপারিশপত্র তৈরি করেছিলেন।
সরকারি দপ্তরে নিয়োগ বা পদোন্নতির মতো কাজে ডিজিটাল এই জালিয়াতি প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে ডিবি।
এনএন/ ৪ আগস্ট ২০২৬






