প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল দিল্লি: ৫৭ মেট্রো স্টেশন বন্ধ, মোতায়েন ২৩ হাজার সেনা – DesheBideshe

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল দিল্লি: ৫৭ মেট্রো স্টেশন বন্ধ, মোতায়েন ২৩ হাজার সেনা – DesheBideshe


প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল দিল্লি: ৫৭ মেট্রো স্টেশন বন্ধ, মোতায়েন ২৩ হাজার সেনা – DesheBideshe

নয়াদিল্লি, ০৯ অক্টোবর – ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধী দল ও বিভিন্ন সংগঠনের ডাকা বড় ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে রাজধানী নয়াদিল্লি। পরিস্থিতি সামাল দিতে ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আজ শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত ৯টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শহরের গুরুত্বপূর্ণ ৫৭টি মেট্রো স্টেশন পুরোপুরি বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই কঠোর কড়াকড়ি বহাল থাকবে।

আগামীকাল শনিবার দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে এই বিশাল সমাবেশের ডাক দিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) ও ছাত্র সংগঠন ‘অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’ (AISA)। এতে মূলধারার বেশ কয়েকটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরাও সংহতি জানিয়ে অংশ নিচ্ছেন।

অবরুদ্ধ রাজধানী: অচল ট্রেন চলাচল ও গণপরিবহন

সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা ও গণজমায়েত ঠেকাত দিল্লির যোগাযোগ ব্যবস্থায় নজিরবিহীন নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে প্রশাসন:

১. রেল চলাচলেও কোপ: প্রধান বিরোধী জমায়েত রুখতে নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিনের মতো দেশের অন্যতম ব্যস্ত দুটি প্রধান রেলস্টেশনে দূরপাল্লার ট্রেন চলাচল স্থগিত ও সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে।

২. অ্যাপভিত্তিক ট্যাক্সি ও প্রবেশপথে কড়াকড়ি: রাজধানীর ভেতরে অ্যাপভিত্তিক ক্যাব চলাচলে কড়া বিধিনিষেধ আরোপের পাশাপাশি দিল্লির প্রবেশপথগুলোতে (সীমান্ত) বসানো হয়েছে হাই-টেক চেকপোস্ট।

৩. অস্থায়ী বন্দিশালা প্রস্তুত: বিক্ষোভকারীদের আটক করে রাখার জন্য শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ১০টি বড় স্টেডিয়ামকে অস্থায়ী আটককেন্দ্র হিসেবে রূপান্তর করা হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে বাওয়ানার রাজীব গান্ধী স্টেডিয়াম ও ছত্রসাল স্টেডিয়াম।

কেন এই নজিরবিহীন কড়াকড়ি?

দিল্লি পুলিশ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই বিক্ষোভ কর্মসূচির কোনো বৈধ অনুমতি দেওয়া হয়নি। নিরাপত্তার স্বার্থে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ১৬৩ ধারা (সাবেক ১৪৪ ধারা) জারি করা হয়েছে।

২৩ হাজার কেন্দ্রীয় সেনা মোতায়েন: পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৮ থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ২৩,০০০ সদস্যের ২২১টি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (CAPF) কোম্পানি মোতায়েন করেছে।

বিশেষ নারী ব্যাটালিয়ন: বিক্ষোভের প্রথম সারিতে নারী আন্দোলনকারীদের সামলাতে জম্মু-কাশ্মীর, পশ্চিমবঙ্গ ও ছত্তিশগড় থেকে বিশেষভাবে আনা ৫টি অল-উইমেন বা নারী প্যারামিলিটারি কোম্পানি প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

আগাম ধরপাকড়: দেশের অন্যান্য রাজ্য থেকে বিক্ষোভে যোগ দিতে আসা সন্দেহভাজন কর্মীদের পথিমধ্যেই ট্রেন ও বাস থেকে নামিয়ে আটক বা ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ।

এক নজরে দিল্লির নিরাপত্তা বলয়:

  • মেট্রো পরিষেবা: আজ রাত ৯টা থেকে ৫৭টি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন বন্ধ
  • নিরাপত্তা বাহিনী: ২২১ কোম্পানি (২৩,০০০ জন) প্যারা-মিলিটারি সদস্য মোতায়েন
  • রেল যোগাযোগ: নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে ট্রেন চলাচল ও প্রবেশ স্থগিত
  • আইনি পদক্ষেপ: বিএনএসএস ১৬৩ ধারা জারি, সমাবেশের অনুমতি বাতিল
  • অস্থায়ী জেল: রাজীব গান্ধী ও ছত্রসাল স্টেডিয়ামসহ ১০টি কেন্দ্র প্রস্তুত

উত্তপ্ত দিল্লি: রাজপথের লড়াই কোন দিকে?

নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিরোধীদের এই তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভ দমন করতে কেন্দ্রীয় সরকার যেভাবে শক্ত অবস্থান নিয়েছে, তাতে দিল্লির রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা ও অচলবস্থার তোয়াক্কা না করে বিরোধী ও ছাত্র সংগঠনগুলো রাজপথে নামার ঘোষণা দেওয়ায় আগামীকাল দিল্লির পরিস্থিতি আরও থমথমে ও সংঘাতময় হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এনএন/ ০৯ অক্টোবর ২০২৬