
ওয়াশিংটন, ৬ আগস্ট – ফিফার বাণিজ্যিক স্বত্ব সংক্রান্ত পরিকল্পনায় বড় ধরনের বাধার পর সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বর্তমানে তীব্র চাপের মুখে রয়েছেন। নিজের অবস্থান সুসংহত করতে তিনি বিভিন্ন কৌশল গ্রহণ করছেন বলে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার লক্ষ্যে সমর্থন পেতে ইনফান্তিনো পর্তুগাল ও স্পেনকে সরিয়ে মরক্কোকে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন।
এমন পরিস্থিতির মধ্যে বিশ্ব ফুটবলের ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন উয়েফার সহ-সভাপতি লরা ম্যাকঅ্যালিস্টার। তিনি মনে করেন ফিফার পরবর্তী সভাপতির এমন সক্ষমতা থাকা উচিত যা পুরো ফুটবল বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করবে। একই সঙ্গে এই খেলার একজন প্রকৃত অভিভাবক হিসেবে তাকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
ইনফান্তিনোর মেয়াদে সৃষ্ট বর্তমান সংকট নিরসনে ফিফা জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে ২০২৭ সালের নির্বাচনের আগে সংস্থাটির পরিচালনা পদ্ধতি নিয়ে সমালোচনা বা পর্যবেক্ষণ থামার কোনো লক্ষণ নেই। ম্যাকঅ্যালিস্টার জানান ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন হতে পারে।
কারণ একজন প্রার্থীকে কেবল ইউরোপ নয় বরং সারা বিশ্বের সদস্য দেশগুলোর সমর্থন অর্জন করতে হবে। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন যে সঠিক প্রার্থী খুঁজে পাওয়া এবং প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করা যতটা সহজ মনে হয় আদতে তা নয়। এর পেছনে ব্যাপক রাজনীতি কাজ করে।
ফুটবলের নেতৃত্ব কাঠামোতে আধুনিকায়ন এবং সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন খেলার সংস্কৃতিতে বড় পরিবর্তন আনা জরুরি। ফুটবল যাতে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা ব্যক্তির একক নিয়ন্ত্রণে না থাকে তা নিশ্চিত করতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাকঅ্যালিস্টার বলেন ফিফার নেতৃত্বে পরিবর্তন আসলে তাতে খেলার মূল আদর্শ ও মূল্যবোধের প্রতিফলন থাকতে হবে। রাজনৈতিক বা বাণিজ্যিক স্বার্থের চেয়ে ফুটবলের নিজস্ব স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। তৃণমূল থেকে শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত সবার জন্যই এই খেলা উন্মুক্ত হওয়া প্রয়োজন।
সম্প্রতি মরক্কোর রাবাতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর ফিফার শীর্ষ নেতৃত্ব ইনফান্তিনোর প্রতি তাদের সমর্থন পুনরায় নিশ্চিত করেছে। তবে বিনিয়োগ পরিকল্পনায় যে ভুল ছিল তার জন্য তারা সদস্য দেশগুলোর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং সমালোচিত প্রক্রিয়াগুলো পর্যালোচনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এস এম/ ৬ আগস্ট ২০২৬






