দীর্ঘ আট বছর এক ছাদের নিচে থাকা ও দুই সন্তানের জন্মের পর অবশেষে দক্ষিণ আফ্রিকান মডেল গ্যাব্রিয়েলা দেমেত্রিয়াদেসকে বিয়ে করলেন বলিউড অভিনেতা অর্জুন রামপাল। তবে কোনো জাঁকজমকপূর্ণ বা জমকালো আয়োজন নয়, অত্যন্ত সাধারণ পোশাকে ভারতের গোয়ায় গিয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় বিয়ের কাজ সম্পন্ন করেছেন এই জুটি।
প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া (পিটিআই)-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর গোয়ার মাপুসার সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে অর্জুন ও গ্যাব্রিয়েলা তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। স্থানীয় গোয়া সিভিল কোড (ইউনিফর্ম সিভিল কোড)-এর অধীনে তাদের বিয়ে নিবন্ধিত হয়।
নিয়ম অনুযায়ী বিয়ের প্রথম ও দ্বিতীয় স্বাক্ষরের মাঝে ১৫ দিনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও বিশেষ অনুমতি নিয়ে দ্রুত এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন তারা। সাব-রেজিস্ট্রার সূর্যে বর্ণেকর জানান, কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধুর উপস্থিতিতে বিকাল ৪টা নাগাদ সাদা-মাটা পোশাকে তারা অফিসে আসেন এবং বিয়ে রেজিস্ট্রি করেন।
২০১৮ সালে অর্জুন ও গ্যাব্রিয়েলার প্রেমের সম্পর্কের সূচনা হয়। দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকার পর ২০১৯ সালে জন্ম নেয় তাদের প্রথম সন্তান অরিক। এর চার বছর পর, ২০২৩ সালে তাদের দ্বিতীয় পুত্র সন্তান অরিভের জন্ম হয়। আইনগতভাবে বিয়ে না করলেও শুরু থেকেই নিজেদের একটি পূর্ণাঙ্গ পরিবার হিসেবে পরিচালনা করে আসছিলেন তারা। অবশেষে ২০২৫ সালে আংটি বদলের পর ২০২৬ সালে এসে তাদের এই দীর্ঘ পথচলা আনুষ্ঠানিক আইনি স্বীকৃতি পেল।
কেন এতদিন বিয়ে করেননি?
দীর্ঘদিন বিয়ে না করা প্রসঙ্গে এর আগে অর্জুন এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘বিয়ে আসলে কী? দিনশেষে এটি কেবল একটি কাগজের টুকরো।’
এই অভিনেতার মতে, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা অনেক সময় সম্পর্কের স্বাভাবিক গতি নষ্ট করে দেয়। তবে তিনি বিয়ের বিরোধী ছিলেন না, কেবল সম্পর্ককে নিজেদের মতো করে গড়ে উঠতে দিতে চেয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেই কাগজের টুকরোতেই সই করলেন তিনি।
উল্লেখ্য, এটি অর্জুন রামপালের দ্বিতীয় বিয়ে। এর আগে ১৯৯৮ সালে তিনি সাবেক মিস ইন্ডিয়া মেহের জেসিয়াকে বিয়ে করেছিলেন। দীর্ঘ ২১ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর ২০১৯ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়। প্রথম পক্ষে অর্জুনের মাহিকা ও মায়রা নামে দুই কন্যা সন্তান রয়েছে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
দীর্ঘ দাম্পত্যের অবসানের পরও দুই মেয়ের সঙ্গে অর্জুনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। গ্যাব্রিয়েলার সঙ্গে সম্পর্ক শুরুর পরও অর্জুন তার সন্তানদের জীবনে বাবার দায়িত্ব পালন করে গেছেন।

