শেষ জীবনে দুটি ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন মারী। এক সময় খেলার মাঠে ফুটবলকে বশ মানিয়েছিলেন। তবে ইচ্ছাপূরণের ক্ষেত্রে অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন না। প্রথম ইচ্ছা রাঙামাটির কাপ্তাইয়ের বাড়িতে, যেখানে পারিবারিক কবরস্থানে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পাবেন গার্ড অব অনারও। সে ইচ্ছা পূরণ হলেও দ্বিতীয় ইচ্ছাটা পূরণ হয়নি। একে তো কিংবদন্তি ফুটবলার, তার ওপর ছিল বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাই স্বাধীনতা পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য মনে করতেন নিজেকে। কিন্তু মারী তা পাননি। মৃত্যুর পর পার হয়েছে ১৪ বছর। প্রতিবার ঘোষিত হয় স্বাধীনতা পুরস্কার। কিন্তু অপেক্ষার অবসান হয়নি মারীর পরিবারের।
জীবনের শেষ বিদায়টাও ছিল বড় বেশি বিবর্ণ, অনাড়ম্বর। কিংবদন্তি ফুটবলারের শেষ যাত্রায় ফুটবলারদের ঢল নামেনি। ফুটবল ফেডারেশনের উপস্থিতিও ছিল আনুষ্ঠানিকতা। এসেছিলেন তখনকার পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার। ফোন করেছিলেন তখনকার ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে আসার জন্য। কিন্তু আসেননি।
এদুয়ার্দো গালিয়ানো লিখেছিলেন—খ্যাতি নামের নারী বিদায় নেওয়ার সময় ফিরে তাকায় না। মারী চৌধুরীর জীবন যেন সেই কথারই নির্মম প্রতিফলন। একসময় স্বর্গীয় উল্লাসে ভেসে যাওয়া এই ফুটবলশিল্পী শেষ পর্যন্ত হারিয়ে গেলেন নিঃশব্দ অবহেলায়। তবু ইতিহাসের পাতায়, যারা জানে, তাদের স্মৃতিতে, চিং হ্লা মং মারী চৌধুরী রয়ে যাবেন এক অমলিন নাম, এক অপূরণীয় শূন্যতা।




