বাংলাদেশের চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ পর্যালোচনা করবে ভারত। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ভারতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা, পরিশোধন সক্ষমতা এবং দেশে ডিজেলের মজুত ও প্রাপ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
শুক্রবার (১৫ আগস্ট) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহের অনুরোধ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল এ কথা জানান।
রণধীর জয়সোয়াল বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ডিজেল সরবরাহের বিষয়ে ভারতের একটি বিদ্যমান ব্যবস্থা রয়েছে এবং সেটি চালু আছে। তবে বাংলাদেশ অতিরিক্ত ডিজেল চাওয়ার যে অনুরোধ জানিয়েছে, তা ভারতের নিজেদের প্রয়োজন, পরিশোধন সক্ষমতা এবং দেশে ডিজেলের প্রাপ্যতা বিবেচনা করে পর্যালোচনা করা হবে।
তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়েও আলোচনা
শুক্রবারের ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। আগামী সপ্তাহে তার দিল্লি সফরের প্রস্তুতি চলছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হলেও ভারত এখনো সফরের তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
এ বিষয়ে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ রয়েছে। পাশাপাশি ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার জন্যও তাকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হলে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।
ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আগামী ২২ বা ২৩ আগস্ট তারেক রহমানের দিল্লি সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। সফরটি অনুষ্ঠিত হলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই হবে তার প্রথম ভারত সফর।
সম্ভাব্য সফরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো সফরের তারিখ বা বিস্তারিত কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি।
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সফর হলে তারেক রহমান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন। সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


