সোয়াদ সাদমান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: মো. ফুয়াদ মন্ডল ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মুখ সারির দাপুটে ছাত্রলীগ নেতৃত্বদের একজন, তবে তার আরেক পরিচয় সাংবাদিক, বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিনিধি হিসেবে একই সাথে কাজ করছেন Ntv, Bangladesh Times, দৈনিক পূর্বকোণ ও Campus Times সহ মোট চারটি গণমাধ্যমে। সম্প্রতি ছাত্রলীগের মিছিল সহ অন্যান্য কার্যক্রমে তার সম্মুখ সারিতে থাকা একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে চলছে আলোচনা সমালোচনা।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (চবিসাস) এর ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সম্পাদক এবং ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ফুয়াদ মন্ডল। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পূর্বেও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সক্রিয় এই সদস্যকে দেখা যেত সংগঠনটির নানান কর্মসূচির সম্মুখ সারীতে এবংকি সাংগঠনিক মিটিং এ সবার মাঝের আসন থেকেই জুনিয়রদের নেতৃত্ব দিতেন তিনি। তৎকালীন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের শাখা সভাপতি রেজাউল হক রুবেলের সাথেও ঘনিষ্ঠ ছিলেন তিনি, দুজনের একসাথে রয়েছে ছবিও।
জানা যায়, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার আমলে সাবেক শিক্ষা মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের শাখা ছাত্রলীগের অনুসারী গ্রুপ ‘সিএফসি’ তে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর পরই যোগদান করেন মো. ফুয়াদ মন্ডল। তথ্যানুসারে, ছাত্রলীগে নিজ সেশনের শীর্ষ নেতৃত্বের একজন ছিলেন তিনি যার দরুন তৎকালীন আমলে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বিভিন্ন দলীয় সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তিও ছিল তার কাছে সহজলভ্য। উল্লেখ্য, ফ্যাসিস্ট শাসনামলে অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং বিশ্ববিদ্যালয়টিতে দখলদারিত্ব ও প্রভাব বিস্তারে ক্যাম্পাসে ত্রাসের রাজনীতির যে ইতিহাস রয়েছে তাতে ছাত্রলীগের বগীভিত্তিক গ্রুপ ও উপগ্রুপের মধ্যে অন্যতম ছিল সিএফসি, যাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে রক্তাক্ত হয়েছে শত শত শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছে আরও অনেকে।
বিশ্ববিদ্যালয়টির একাধিক শিক্ষার্থী জানান, মো. ফুয়াদ মন্ডল ক্যাম্পাসে শাখা ছাত্রলীগের নেতৃত্বে থাকলেও জুলাই বিপ্লব পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে তিনি জামাত-শিবিরের সমর্থক আবার সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে তিনি গোপনে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে তাদের গুপ্ত সদস্যও হতে পারেন বলে অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, তার ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক আইডিতে দেখা যায়, বিএনপি সরকারের বিরোধিতা সহ জাতীয় নির্বাচনকালীন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমর্থনে একাধিক পোস্ট। এছাড়াও তার নিজ এলাকার বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্যমতে, তিনি ও তার পরিবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী এবং তার পিতা মো: ইউছুব আলী মন্ডল গাইবান্ধা-২ আসনের ৫নং ওয়ার্ডের ৪নং সাহাপাড়া ইউনিয়নের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মেম্বার পদপ্রার্থী।
আরও পড়ুনঃ
এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে মো. ফুয়াদ মন্ডল ছাত্রলীগের সাথে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করে গণমাধ্যমকে জানান, “আমি আমার এক এলাকার বড় ভাইয়ের মাধ্যমে হলে উঠেছি আরকি, ঐ সময় তো আমার বাসা থেকে প্রায় অনেক দূরে ক্যাম্পাস। আমার বাসা গাইবান্ধা উত্তরবঙ্গে। ওভাবে তো কিছু চিনতামও না আসছি তো ভাই বলছে হলে উঠো, উঠছি থাকছি কিছুদিন। সে হিসেবে হয়তো ছাত্রলীগের দুই একটা প্রোগ্রামে ছিলাম।” তিনি আরও জানান, “জুলাই অভ্যুত্থান আমি সক্রিয়ভাবে ছিলাম।” “আমাকে রাষ্ট্রীয়ভাবেই জুলাই যোদ্ধার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।”




