নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আওতাধীন ২৬টি থানা কমিটি গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ যুবদলের আওতাধীন সব থানার নতুন কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াপল্টনে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ যুবদলের নেতাদের জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, নতুন কমিটিতে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়, সাংগঠনিকভাবে দক্ষ এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে—এমন নেতাদের গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। তবে থানা পর্যায়ের পদগুলোতে কারা চূড়ান্তভাবে দায়িত্ব পাচ্ছেন, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের বিভিন্ন থানা কমিটির সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে এরই মধ্যে নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা চলছে। বিমানবন্দর থানা যুবদলের শীর্ষ পদে আলমগীর হোসেন ও হাসান সরকারের নাম আলোচনায় রয়েছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি। উত্তরা পূর্ব থানায় অপু শিখদার, উত্তরা পশ্চিমে মিলন মিয়া, মাসুম, নূর আলিফ ও বাবু, তুরাগ থানায় মামুন, দক্ষিণখানে মিঠু ও মোবারক এবং খিলক্ষেতে মনির ও বাবুর নামও আলোচনায় রয়েছে। গুলশান থানা যুবদলের নেতৃত্বে জাকির হোসেনের নামও শোনা যাচ্ছে।
তবে এসব নামের বিষয়ে যুবদলের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তালিকা বা অনুমোদনের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে চূড়ান্ত কমিটি ঘোষণার আগে সম্ভাব্য পদপ্রত্যাশীদের তালিকায় পরিবর্তন আসতে পারে।
এদিকে বিমানবন্দর থানা যুবদলের সভাপতি অথবা সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী হিসেবে হাসান সরকার তার পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। তাঁর ভাষ্য, দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে বিমানবন্দর এলাকাকে আরও নিরাপদ ও জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে চান তিনি।
হাসান সরকারের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে—এলাকাকে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বমুক্ত করা, প্রবাসীদের জন্য বিশেষ হেল্পডেস্ক চালু, হজযাত্রীদের সহায়তায় হাজি ক্যাম্প এলাকায় সেবা কেন্দ্র স্থাপন, C&F ব্যবসায়ীদের আইনি সহায়তা, জনগণের দোরগোড়ায় প্রশাসনিক ও পুলিশি সেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ।
এ ছাড়া তাঁর পরিকল্পনায় রয়েছে বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, নিরাপত্তা গেট, সড়কবাতি স্থাপন, বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জোরদার, মাদকবিরোধী কার্যক্রম এবং তরুণদের জন্য খেলাধুলা ও ক্যারিয়ার সহায়তা।
বেকার যুবকদের জন্য বিনামূল্যে ফ্রিল্যান্সিং ও আইটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত, পরিবহন শ্রমিকদের হয়রানি ও অবৈধ চাঁদাবাজি প্রতিরোধ, মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়ন এবং নারী, বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও দরিদ্র মানুষের জন্য আইনি সহায়তার কথাও তাঁর পরিকল্পনায় রয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে দাঁড়াতে যুবদলের নেতাকর্মীদের নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক বা রেসকিউ টিম গঠনের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
হাসান সরকার বলেন, “বিমানবন্দর থানার নেতৃত্বে আসতে পারলে হজযাত্রীদের নির্বিঘ্ন সেবা এবং প্রবাসীদের হয়রানি-চাঁদাবাজি বন্ধে কাজ করব।” একই সঙ্গে তিনি বিমানবন্দর এলাকাকে একটি আধুনিক ও নিরাপদ মডেল এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তবে হাসান সরকারের এসব উদ্যোগ বর্তমানে ঘোষিত পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতির পর্যায়ে রয়েছে। এগুলো বাস্তবায়নে সরকারি সংস্থা, সিটি করপোরেশন, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের অনুমোদন ও সমন্বয়ের প্রয়োজন হবে।
১৩ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের পক্ষ থেকে জিয়াউর রহমান জিয়া, রফিক আহমেদ ভলা ও বিলাল হোসেন তারেককে থানা কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় সূত্রে জানানো হয়েছে। দক্ষিণেও তিন নেতাকে একই ধরনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের থানাগুলোতে নতুন কমিটি গঠন ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া শেষ হলে সম্ভাব্য পদপ্রত্যাশীদের নিয়ে চলমান আলোচনা স্পষ্ট হবে। এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন পদপ্রত্যাশী ও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
