গতকাল বেলা দুইটার আগে তাহসিফের লাশ নিতে মর্গে কোনো স্বজন আসেননি। ময়নাতদন্ত শেষে বেলা ২টা ২০ মিনিটে তাঁর বাবা কে এম এনায়েতুল করিম মর্গে এসে ছেলের মরদেহ গ্রহণ করেন। এরপর ফ্রিজিং ভ্যানে মরদেহ নিয়ে পুলিশ পাহারায় উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের বাসার উদ্দেশে রওনা হন।
মর্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এনায়েতুল করিম বলেন, তাঁর ছেলের মৃত্যু আত্মহত্যা নয়। সরকার তদন্ত করলে প্রকৃত অপরাধীদের বের করতে পারবে, খুনি চক্র কারা, তা জানা যাবে।
এনায়েতুল করিম বলেন, ‘ঘটনার আগের দিন তাহসিফ তার মায়ের সঙ্গে ছিল। শপিং করেছে, ভেরি হ্যাপি মুডে ছিল। সে তো অ্যাসেট, দেশের পাইলট। ওর দীপ নামের একটা বন্ধু এসেছিল। মাকে বলেছিল নিচ থেকে কথা বলে আসি। এরপর ও আর ফেরে নাই।’
এনায়েতুল করিম আরও বলেন, ‘রাত ১টা ৩৫ মিনিটে তাহসিফ তার মাকে ভয়েস মেসেজ দিয়েছিল, আমি আসতেছি। দীপের কাছে তাহসিফের ব্যাপারে জানতে চাইলে সে বলে, আমি জানি না। তবে দীপ বলেছিল, ঘটনার আগের দিন রাত ১২টা পর্যন্ত তাহসিফ আমাদের বাসার কম্পাউন্ডে ছিল।’
ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর থানায় গেলেও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেননি বলে জানান এনায়েতুল করিম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ছেলে মিসিং হওয়ার পর থানায় খোঁজ নিতে গিয়েছিলাম, জিডি করিনি।’ মামলা করবেন কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দাফন কাফন শেষে এ ব্যাপারে চিন্তা করব।’
গতকাল আসরের নামাজের পর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পে তাহসিফের জানাজা হয়। পরে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
এদিকে উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান গতকাল রাত সাড়ে আটটার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, এই ঘটনায় তখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।




