বিশ্বকাপের মালিকানা বিক্রির পরিকল্পনার নেতৃত্বে থাকা সেই ব্যাংকারের সঙ্গে কী যোগসূত্র ছিল এপস্টিনের | চ্যানেল আই অনলাইন

বিশ্বকাপের মালিকানা বিক্রির পরিকল্পনার নেতৃত্বে থাকা সেই ব্যাংকারের সঙ্গে কী যোগসূত্র ছিল এপস্টিনের | চ্যানেল আই অনলাইন

বিশ্বকাপের মালিকানা বিক্রির একটি পরিকল্পনা, আর সেখানে থেকে একের পর এক সমালোচনা, ক্ষমতা থেকে পদত্যাগের চাপের মধ্যে পড়েন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সে পরিকল্পনা থেকে সরে এসে ক্ষমাও চেয়েছেন সফাপতি, তাও কমেনি চাপ। এর মধ্যেই সামনে এল নতুন এক তথ্য। জেপি মরগান চেজের যে ব্যাংকার বিশ্বকাপ বিক্রির পরিকল্পনার নেপথ্যের নেতৃত্বে ছিলেন, তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের।

মেরি এরদোস নামের সে ব্যাংকারের সঙ্গে এপস্টইনের সম্পর্কের কারণে চাপের মুখে পড়েছেন তিনি। অ্যাসেট অ্যান্ড ওয়েলথ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রধান, ৫৮ বর্ষী এ ব্যাংকার। বিশ্বকাপের মালিকানার ২০ শতাংশ শেয়ারে জন্য বিনিয়োগকারী খুঁজে বের করার জন্য ব্যাংকের প্রচেষ্টার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এরদোস।

২০১৯ সালে প্রয়াত এপস্টিনের সাথে তার পূর্ববর্তী দীর্ঘদিনের সম্পর্কের জন্যও এরদোসকে তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত নথি থেকে জানা যায় যে, ফ্লোরিডায় একজন নাবালিকাকে পতিতাবৃত্তির জন্য প্ররোচিত করার অভিযোগে এপস্টিন দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পাঁচ বছর পর, ২০১৩ সালে এরদোস জেপি মরগ্যানের সাথে তার সম্পর্ক ছিন্ন করেন।

এক আর্থিক সংক্রান্ত গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে, এরদোস এবং এপস্টিনের মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া ইমেলগুলো থেকে বোঝা যায় যে, ব্যাংকিং সংক্রান্ত বিষয়ে তাদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল। ২০১২ সালে এরদোয়েস তার জেপি মরগান অ্যাকাউন্ট থেকে এপস্টিনকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে ইমেল করেছিলেন। এপস্টিনের আরেক সহযোগী, গোল্ডম্যান স্যাকসের সাবেক নির্বাহী ক্যাথরিন রুয়েমলারের ব্যাংকিং ব্যবস্থা নিয়ে এ দুজনের মধ্যে কর্মীদের মাধ্যমে পরোক্ষ যোগাযোগ ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের আরেক গণমাধ্যমের মতে, এরদোস সেই অল্প কয়েকজন ব্যক্তির মধ্যে একজন বলে মনে করা হয়, যারা ইনফান্তিনোর পরিকল্পনাগুলো প্রণয়নের সময় থেকেই সে সম্পর্কে জানতেন। পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে ছিল মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই জোশুয়া কুশনার। বিশ্বকাপ ফাইনালের মাত্র কয়েকদিন আগে পর্যন্ত ইনফান্তিনো তার সবচেয়ে কাছের কর্মীদের কাছেও এ পরিকল্পনা প্রকাশ করেননি।

জোশুয়া কুশনারের বিনিয়োগ সংস্থা, থ্রাইভ ইটার্নাল এবং ফিফা সম্ভাব্য বিক্রির জন্য সহ-বিনিয়োগকারী খুঁজে পেতে জেপি মরগান অ্যান্ড কোকে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেছিল। যা পরবর্তীকালে ইনফান্তিনো বাতিল করে দেন। ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) প্রকল্পটি বিশ্ব ফুটবলে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে এবং ফিফা সভাপতি হিসেবে ইনফান্তিনোকে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে লড়াইয়ে নামিয়েছে। ইউরোপীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা, এশিয়া এবং নর্থ ও সেন্ট্রাল আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা এ প্রকল্প থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে।

এরদোস, গত বছর ৩২ মিলিয়ন ডলার আয় করে ব্যাংকটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উপার্জনকারী ছিলেন। তিনি ইনফান্তিনোর সাথে তার সম্পর্ক নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। এ দুজনের মধ্যে সম্পর্কটি স্পষ্ট নয়, যদিও ব্যাংকের একটি কর্মী সভায় এরদোস যখন বক্তব্য রাখছিলেন, তখন ইনফান্তিনো তার সাথে মঞ্চে ছিলেন।

এপস্টিনের সাথে এরদোসের লেনদেনের বিষয়ে জেপি মরগান আর্থিক সংক্রান্ত গণমাধ্যমকে বলেছে, ‘এই ব্যক্তির (এপস্টিন) সাথে আমাদের যে কোনো ধরনের সম্পর্কের জন্য আমরা দুঃখিত, কিন্তু তার জঘন্য অপরাধ সংঘটনে আমরা তাকে সাহায্য করিনি। প্রতিষ্ঠানটি ২০০২ সাল থেকে একাধিক সন্দেহজনক কার্যকলাপের প্রতিবেদন দাখিল করেছিল, কিন্তু সরকারের কাছ থেকে কোন সাড়া পায়নি। মেরি এরদোস তার গ্রেপ্তারের ছয় বছর আগে, ২০১৩ সালে তার অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। মেরি সর্বদা নিজেকে এবং তার সহকর্মীদের সততা ও বিশ্বাসের সর্বোচ্চ মানদণ্ডে ধরে রেখেছেন, আর্থিক পরিষেবা খাতের অন্যতম শীর্ষ নির্বাহী হিসেবে ধারাবাহিকভাবে স্বীকৃত এবং আমাদের প্রতিষ্ঠানের একজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে কাজ করে চলেছেন।’