
ঢাকা, ২৯ এপ্রিল – গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের অংশগ্রহণ না করাকে সরকারের বড় ভুল সিদ্ধান্ত বলে অভিহিত করেছেন সাকিব আল হাসান।
নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ দেখিয়ে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার ভারত সফরের অনুমতি না দেওয়ায় বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ড বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায়। ১৯৯৯ সালের পর এবারই প্রথম কোনো ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মিস করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত ইইউ টি-টোয়েন্টি বেলজিয়াম এর এক অনুষ্ঠানে সাকিব জানান, এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের ক্রিকেটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা একটি ক্রিকেটপাগল জাতি এবং দেশের মানুষ ক্রিকেটারদের বিশ্বকাপে লড়তে দেখতে চায়। সরকারের সেই সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল বলেই তিনি মনে করেন।
ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাবে বিসিসিআই আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে সরিয়ে দিয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিসিবি ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের প্রস্তাব দিলেও আইসিসি তা গ্রহণ করেনি। পরবর্তী সময়ে সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলও স্পষ্ট করেছিলেন যে সরকারের নির্দেশেই বিসিবি এই পথে হেঁটেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে সম্পর্কের কিছুটা অবনতি হয়।
তবে আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতের বাংলাদেশ সফরের মাধ্যমে এই স্থবিরতা কাটবে বলে আশাবাদী সাকিব। তিনি মনে করেন, এক বা দুটি সিরিজ আয়োজন করলেই পরিস্থিতির উন্নয়ন সম্ভব হবে।
এদিকে তামিম ইকবালের বিসিবি সভাপতি হওয়াকেও ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সাকিব। দুজনের ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকলেও সাকিবের প্রত্যাশা তামিমের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় দেশের ক্রিকেট উপকৃত হবে।
২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে দেশের বাইরে থাকা সাকিবের নামে বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে। তবে বর্তমান সরকারের ক্রীড়া মন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, সাকিব ও মাশরাফির মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে। সাকিব নিজেও দেশের মাটিতে বিদায়ী ম্যাচ খেলার বিষয়ে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
এনএন/ ২৯ এপ্রিল ২০২৬






