বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম | চ্যানেল আই অনলাইন

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম | চ্যানেল আই অনলাইন

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে টানা চতুর্থ দিনের মতো বেড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পক্ষ থেকে প্রণালিটির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য আসায় সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বুধবার ১৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স-এর প্রকাশিত তথ্যে, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪২ সেন্ট বা ০.৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯১ দশমিক ৪৪ ডলারে দাঁড়ায়। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৫১ সেন্ট বা ০.৬ শতাংশ বেড়ে ৮৫ দশমিক ৪৫ ডলারে উঠেছে। এর আগে মঙ্গলবার উভয় সূচকের দাম তিন সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।

তেলের বাজারে এই ঊর্ধ্বগতির প্রধান কারণ হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন করে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার বলেছেন, প্রণালিটি জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ এখনো বন্ধ রয়েছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ সোমবার শেষ হয়েছে। একই সময়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কাও বাড়ছে। যদিও মঙ্গলবার উভয় পক্ষের মধ্যে নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে জাহাজ চলাচলের তথ্য বলছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল কমে গেছে। মঙ্গলবার মাত্র ছয়টি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে, যেখানে আগের দিন এই সংখ্যা ছিল নয়টি এবং সাম্প্রতিক ১০ দিনের দৈনিক গড় ছিল ১১টি। নিরাপত্তা পরিস্থিতি পরিষ্কার না হওয়ায় অনেক জাহাজ মালিকই গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ এড়িয়ে চলছেন।

বিশ্বের অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ ঐতিহাসিকভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে দীর্ঘ সময় এই নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।

তবে তেল সরবরাহ সচল রাখতে বিকল্প পথ খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো। ইরাকের মন্ত্রিসভা হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিভিন্ন বিকল্প রপ্তানি পথ ব্যবহার করে অপরিশোধিত তেল রপ্তানির ব্যবস্থা অনুমোদন করেছে। নতুন ব্যবস্থার আওতায় ১ সেপ্টেম্বর থেকে তিন মাসের জন্য চুক্তি করা হবে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে তেলের দামে ঊর্ধ্বমুখী চাপ বজায় থাকতে পারে। তবে বিকল্প রপ্তানি পথ কার্যকরভাবে ব্যবহার করা গেলে সরবরাহ সংকটের ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও জ্বালানি মজুতের ওপর নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা। আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেল ও ডিস্টিলেটের মজুত কমেছে, তবে গ্যাসোলিনের মজুত বেড়েছে। দেশটির এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে বাজার।