বিশ্বের বিখ্যাত চলচ্চিত্র উৎসবে ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’, উচ্ছ্বসিত বাঁধন | চ্যানেল আই অনলাইন

ভেনিস থেকে টরন্টো, এরপর লন্ডন-বিশ্বের একের পর এক মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবে জায়গা করে নিচ্ছে নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেনের সিনেমা ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’। সিনেমাটির বিশেষ একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন আজমেরী হক বাঁধন। একের পর এক আন্তর্জাতিক উৎসবে সিনেমাটির যাত্রায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন এই অভিনেত্রী।

বিশ্বের মর্যাদাকর এসব চলচ্চিত্র উৎসবে ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ নির্বাচিত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় বাঁধন বলেন, “অবশ্যই ভীষণ ভালো লাগছে। এত বড় ও মানসম্মত একটি কাজের অংশ হতে পেরেছি। এরকম একটা কাজের ছোট একটা অংশ আমি হতে পেরেছি, এজন্য খুবই আনন্দিত এবং গর্বিত যে কাজটা এত এত ভালো ভালো জায়গায় যাচ্ছে।”

সিনেমাটিতে ‘গেস্ট অ্যাপিয়ারেন্স’ ছিলেন বাঁধন। নিজের চরিত্র প্রসঙ্গে তিনি জানান, এটি মূলত একটি অতিথি চরিত্র বা গেস্ট অ্যাপিয়ারেন্স। তার স্ক্রিন টাইমও খুব বেশি নয়। বাঁধন বলেন, “আমি একটি পার্লারের ওনার হিসেবে এখানে অভিনয় করেছি।”

একটির পর একটি আন্তর্জাতিক উৎসবে সিনেমাটির জায়গা করে নেওয়ার পেছনে গল্প ও নির্মাণশৈলীকেই মূল শক্তি হিসেবে দেখছেন বাঁধন।

তার ভাষায়, “প্রথমত, গল্পটা ভীষণ ভালো। ডিরেকশন খুবই ভালো। ডিরেক্টর ও রাইটার একজনই—রুবাইয়াত হোসেন। সে অসাধারণ একটা কাজ করেছে। আর সঙ্গে যারা ছিলেন, তারাও অসাধারণ অভিনয় করেছেন।”

বিশেষ করে সিনেমাটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করা জাইনীন চৌধুরী করিমের প্রশংসা করে বাঁধন বলেন, “স্পেশালি যে মেয়েটি মূল চরিত্রে অভিনয় করেছে, জাইনীন চৌধুরী করিম, সে অসাধারণ অভিনয় করেছে।”

‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এ কাজের অভিজ্ঞতাও বেশ ইতিবাচক বলে জানিয়েছে বাঁধন বলেন, “খুবই ভালো অভিজ্ঞতা! একটা অসাধারণ সেটে কাজ করেছি, যেখানে বেশিরভাগ ডিপার্টমেন্টের হেডই হচ্ছেন মেয়ে। বেশিরভাগই মেয়ে, এইরকম একটা সেট তো আমরা চাই।”

সেটের পরিবেশ ও শিল্পীদের প্রতি সম্মানের বিষয়টিও আলাদা করে উল্লেখ করে বাঁধন বলেন, “যেভাবে আসলে সেটে আর্টিস্টদের সম্মান করা হয়েছে, তাদেরকে টেক কেয়ার করা হয়েছে, সেটা আমার ভীষণ ভালো লেগেছে। রুবাইয়াত ভীষণ ভালো ডিরেক্টর তো অবশ্যই, সে ভীষণ ভালো একজন মানুষও।”

দেশের চলচ্চিত্রে নারীপ্রধান গল্পের সংখ্যা কম বলেও মন্তব্য করেন বাঁধন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পরিবর্তনের আভাস পাচ্ছেন তিনি। বাঁধন বলেন, “আমাদের এখানে নারীপ্রধান গল্পগুলো খুব কম হয়। তবে এখন কিছু পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি। আমি দেখছি যে, অনেকেই আসলে নারীকেন্দ্রিক গল্পের দিকে এগিয়ে আসছে।”

নারীকেন্দ্রিক গল্প নির্মাণে নারী নির্মাতাদের অবদানের কথাও তুলে ধরে বাঁধন বলেন, “রুবাইয়াত এই কাজটা অনেক বছর থেকে করছে। তো এরকম যেসব নারী ডিরেক্টর আছেন, তাদের কাছে আমি গ্রেটফুল, তারা আসলে এভাবে চিন্তা করেছেন। আর পুরুষদের মধ্যেও যারা আছেন, যারা নারীকেন্দ্রিক গল্প চিন্তা করেন, তাদের প্রতিও আমি কৃতজ্ঞ।”

ভবিষ্যতে নির্মাণের বিভিন্ন পর্যায়ে আরও বেশি নারীকে দেখতে চান বাঁধন। তিনি বলেন, “আমি ভবিষ্যতে ডিরেক্টর ও প্রডিউসার লেভেলে আরো অনেক মেয়েকে দেখতে চাই।