বৃষ্টি মাপে কীভাবে, ভারী বৃষ্টির মানে কী, জেনে নিন ৮ প্রশ্নের উত্তরে

বৃষ্টি মাপে কীভাবে, ভারী বৃষ্টির মানে কী, জেনে নিন ৮ প্রশ্নের উত্তরে

ভরা বর্ষায় টানা বৃষ্টি হচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। গত কয়েক দিনে চট্টগ্রাম অঞ্চলে জলাবদ্ধতা, পাহাড়ধস ঘটিয়েছে প্রাণহানি, আজ ঢাকায় তলিয়েছে অনেক সড়ক। এই সময়ে সবাই মনোযোগ দেন আবহাওয়ার খবরে। এই যেমন আজ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানাল, ৬ ঘণ্টায় ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে ঢাকায়। কিন্তু ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টি বলতে আসলে কী বোঝায়, এই বৃষ্টি কীভাবে মাপা হয়, কোথায় মাপা হয়—জেনে নেওয়া যাক এসবের উত্তর।

বৃষ্টি কীভাবে মাপা হয়?

বৃষ্টি পরিমাপের আন্তর্জাতিক একক হলো মিলিমিটার (মিমি)। অর্থাৎ কোনো সমতল পৃষ্ঠে বৃষ্টির পানি যদি কোথাও না গড়ায়, মাটিতে না মিশে এবং বাষ্প হয়ে উড়ে না যায়, তাহলে সেই পানি কত মিলিমিটার উচ্চতা পর্যন্ত জমত, সেটিই বৃষ্টির পরিমাণ। আর তা মাপার জন্য রয়েছে সুনির্দিষ্ট পাত্র, যাকে বলে রেইন গেজ।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. আশরাফুল আলম জানান, দেশের প্রতিটি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে বৃষ্টি পরিমাপের জন্য রেইন গেজ রয়েছে। সাধারণত তিন ঘণ্টা পরপর বৃষ্টির পরিমাণ রেকর্ড করা হয়। ম্যানুয়াল রেইন গেজটি ধাতব তৈরি। এর মুখের ব্যাস প্রায় ৮ ইঞ্চি এবং এটি মাটি থেকে প্রায় ৩০ ইঞ্চি উঁচুতে স্থাপন করা হয়, যাতে আশপাশের গাছপালা বা ভবন বৃষ্টির পরিমাপে প্রভাব ফেলতে না পারে।

রেইন গেজের মুখ দিয়ে বৃষ্টির পানি একটি ছোট ফানেলের মাধ্যমে সংগ্রাহক পাত্রে জমা হয়। পরে একটি বিশেষ মাপদণ্ড বা স্কেল ব্যবহার করে পানির উচ্চতা মিলিমিটারে নির্ণয় করা হয়।

এ ছাড়া বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের কাছে স্বয়ংক্রিয় (সেলফ রেকর্ডিং) রেইন গেজ এবং টিপিং বাকেট রেইন গেজ রয়েছে। এসব যন্ত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৃষ্টির পরিমাণ রেকর্ড করে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে ২২৫টির বেশি অটোমেটিক ওয়েদার স্টেশন থেকেও বৃষ্টির তথ্য সংগ্রহ করা হয়।