বেদনাদায়ক আঘাতে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে বাধ্য হবে মার্কিন বাহিনী! মোজতবা খামেনির কড়া হুঁশিয়ারি – DesheBideshe

বেদনাদায়ক আঘাতে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে বাধ্য হবে মার্কিন বাহিনী! মোজতবা খামেনির কড়া হুঁশিয়ারি – DesheBideshe


বেদনাদায়ক আঘাতে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে বাধ্য হবে মার্কিন বাহিনী! মোজতবা খামেনির কড়া হুঁশিয়ারি – DesheBideshe

তেহরান, ২৯ সেপ্টেম্বর – “হরমুজ প্রণালীর সাহসী প্রহরীদের কাছে একের পর এক বেদনাদায়ক আঘাত খেয়ে শত্রুরা এখন দিশেহারা! আরব সাগরের সীমানা পার হওয়ার দুঃসাহস তারা আর দেখাতে পারছে না।”—যুক্তরাষ্ট্রের নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও ওয়াশিংটনকে উদ্দেশ্য করে এমনই এক অগ্নিগর্ভ বার্তা দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি মার্কিন বাহিনীকে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে বাধ্য করার এই কড়া হুঁশিয়ারি দেন।

ফেব্রুয়ারির সংঘাতের পর প্রথম কড়া বার্তা

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষভাগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে প্রকাশ্যে আসেননি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। দীর্ঘদিন আড়ালে থাকার পর সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টার মাঝেই তাঁর এই কঠোর বিবৃতি আসায় কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

‘আরব সাগরেও টিকতে পারবে না শত্রু’

রাষ্ট্রীয় টিভিতে প্রচারিত বিবৃতিতে খামেনি স্পষ্টভাবে জানান, যখনই শত্রু পক্ষ ঝুঁকি নেওয়ার দুঃসাহস দেখিয়েছে, তখনই নিজেদের জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে এনেছে। তিনি বলেন, “খুব বেশি দিন বাকি নেই যখন গোটা আরব সাগরও মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি থেকে পুরোপুরি মুক্ত হবে।” উল্লেখ্য, আরব উপদ্বীপ থেকে ভারতের পশ্চিম উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত এই আরব সাগর বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ, যা সরাসরি ইরানের তটরেখা ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালীর সঙ্গে যুক্ত।

হরমুজ প্রণালীতে নৌ-অবরোধ ও জ্বালানি সংকট

ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলার পর থেকেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের লড়াইয়ের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’।

জ্বালানি সরবরাহ স্তব্ধ: সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট ব্যবহৃত জ্বালানি তেল ও গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ (এক-পঞ্চমাংশ) এই সংকীর্ণ প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হতো।

পাল্টাপাল্টি অবরোধ: যুদ্ধ শুরুর পরপরই তেহরান কৌশলগত এই প্রণালীতে পূর্ণাঙ্গ নৌ-অবরোধ জারি করে। জবাবে ওয়াশিংটনও ইরানের প্রধান সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর আন্তর্জাতিক অবরোধ আরোপ করে পরিস্থিতি জটিল করে তোলে।

কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে অচলাবস্থা কাটানোর চেষ্টা করা হলেও, মোজতবা খামেনির এই অনমনীয় মনোভাব ও হুঁশিয়ারি স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে—মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ও সমুদ্রসীমায় সংঘাত থামার বার্তা এখনই মিলছে না।

এনএন/ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬