রাজনীতি শুধু ক্ষমতার খেলা নয়, ব্যক্তিগত জীবনও অনেক সময় রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণ করে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বহু প্রভাবশালী রাজনীতিকের ক্যারিয়ার ধ্বংস হয়েছে যৌন কেলেঙ্কারি, গোপন সম্পর্ক কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের বিতর্কে। কখনও একটি সম্পর্ক সরকার পতনের কারণ হয়েছে, কখনও আবার রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতার লড়াইয়ে পরাজয়ের।
এসব ঘটনাই বারবার জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বসিনেমায়। কোথাও বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে, কোথাও বা বাস্তবতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মিত হয়েছে আলোচিত সিনেমা। নির্বাচিত সেইসব সিনেমার কথা থাকলো এই ফিচারে-
স্ক্যান্ডাল (১৯৮৯)
১৯৬৩ সালের ‘প্রফুমো অ্যাফেয়ার’ ব্রিটিশ রাজনীতির ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত যৌন কেলেঙ্কারি। যুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী জন প্রফুমোর সঙ্গে তরুণী মডেল ক্রিস্টিন কিলারের সম্পর্ক প্রকাশ্যে আসার পর শুধু একজন মন্ত্রীর পদত্যাগই হয়নি, তৎকালীন সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতাও বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছিল।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ১৯৮৯ সালে নির্মিত ‘হয় স্ক্যান্ডাল’। চলচ্চিত্রটি দেখায়, ব্যক্তিগত সম্পর্ক কীভাবে জাতীয় নিরাপত্তা, গণমাধ্যম এবং সরকারের স্থিতিশীলতার প্রশ্নে পরিণত হতে পারে। সিনেমাটি ১৯৮৯ সালের কান চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগেও প্রদর্শিত হয়েছিল।
ওয়াগ দ্য ডগ (১৯৯৭)
রাজনৈতিক স্যাটায়ারধর্মী চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর একটি ‘ওয়াগ দ্য ডগ’। সিনেমার গল্পে দেখা যায়, নির্বাচনের ঠিক আগে মার্কিন প্রেসিডেন্টের যৌন কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। সেই সংকট সামাল দিতে এক রাজনৈতিক কৌশলবিদ এবং এক হলিউড প্রযোজক মিলে গণমাধ্যমে একটি কাল্পনিক যুদ্ধের গল্প তৈরি করেন, যাতে জনগণের দৃষ্টি কেলেঙ্কারি থেকে অন্যদিকে সরে যায়।
চলচ্চিত্রটি মুক্তির পর থেকেই রাজনৈতিক প্রচারণা, মিডিয়া ম্যানিপুলেশন এবং জনমত নিয়ন্ত্রণের প্রতীক হিসেবে আলোচিত হয়ে ওঠে। আজও এই সিনেমা রাজনৈতিক ব্যঙ্গচিত্রের অন্যতম ক্লাসিক হিসেবে বিবেচিত হয়।
দ্য ফ্রন্ট রানার (২০১৮)
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর গ্যারি হার্টকে একসময় প্রেসিডেন্ট হওয়ার সবচেয়ে সম্ভাবনাময় প্রার্থী মনে করা হতো। কিন্তু ১৯৮৭ সালে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কার্যত শেষ হয়ে যায়। এই বাস্তব ঘটনাকে ভিত্তি করে নির্মিত হয়েছে ‘দ্য ফ্রন্ট রানার’। হিউ জ্যাকম্যান অভিনীত এই সিনেমা শুধু একটি সম্পর্কের গল্প নয়; বরং ব্যক্তিগত জীবন কোথায় শেষ হয় এবং জনজীবনের দায়বদ্ধতা কোথা থেকে শুরু হয়- সেই প্রশ্নও তোলে।
প্রাইমারি কালার্স (১৯৯৮)
এই সিনেমাটি সরাসরি কোনো বাস্তব রাজনীতিকের জীবনী নয়। তবে অধিকাংশ সমালোচকের মতে, চলচ্চিত্রটির কেন্দ্রীয় চরিত্র তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের রাজনৈতিক জীবন ও ব্যক্তিগত বিতর্ক থেকে অনুপ্রাণিত। নির্বাচনী প্রচারণা, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক ইমেজ রক্ষার লড়াই- সব মিলিয়ে এটি আধুনিক রাজনৈতিক নাটকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র হিসেবে বিবেচিত।
দ্য কনটেন্ডার (২০০০)
এখানে যৌন কেলেঙ্কারির অভিযুক্ত কোনো পুরুষ নন; বরং ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে মনোনীত এক নারী রাজনীতিককে তার অতীত ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে রাজনৈতিক আক্রমণের মুখে পড়তে হয়। চলচ্চিত্রটি দেখায়, একই ধরনের ব্যক্তিগত আচরণের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ রাজনীতিকদের প্রতি সমাজ এবং রাজনীতির দৃষ্টিভঙ্গি কতটা ভিন্ন হতে পারে।
দ্য আইড্স অব মার্চ (২০১১)
নির্বাচনী প্রচারণার আড়ালে লুকিয়ে থাকা সম্পর্ক, গোপন তথ্য, বিশ্বাসঘাতকতা এবং ক্ষমতার রাজনীতির গল্পই উঠে আসে এই সিনেমায়। যদিও এটি কোনো নির্দিষ্ট বাস্তব কেলেঙ্কারির গল্প নয়, তবু আধুনিক নির্বাচনী রাজনীতির অন্ধকার বাস্তবতার অন্যতম শক্তিশালী সিনেমা হিসেবে এটি পরিচিত। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন জর্জ ক্লুনি।





