জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ব্যাংক লেনদেনের ওপর কর আরোপ এবং উচ্চ সম্পদশালীদের ওপর কর বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে প্রাক-বাজেট উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, উচ্চ আয়ের ব্যক্তি এবং উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পদের ওপর কর বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যাংক লেনদেনে কর প্রবর্তনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কর আদায়ের পুরো প্রক্রিয়াকে ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শুধু এনবিআরের পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে অন্যান্য সরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোকে কর আদায়ে আরও আধুনিক ও কার্যকর হতে হবে।
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোকে এবারের বাজেটের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি ছোট-বড় সরকারি প্রকল্পগুলোকে করের আওতায় আনার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
আবদুর রহমান খান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন জোরদার করা হচ্ছে এবং কাস্টমস বন্ডের অপব্যবহার রোধে অটোমেশন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কর আদায় ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে এনবিআর সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে বলেও জানান তিনি। এতে করদাতাদের ভ্যাট, কাস্টমস বা বন্ড অফিসে যেতে হবে না; অনলাইনে রিটার্ন জমা দিলে সঠিক থাকলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাংক হিসাবেই রিফান্ড চলে যাবে।
এনবিআর চেয়ারম্যান কর ফাঁকি ও ভুয়া অডিট রিপোর্টের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি অটোমেটিক রিটার্ন ও ভ্যাট প্রদানে করদাতাদের সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
সভায় চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়া উদ্দিন, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞাসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরে বিকেলে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট সংক্রান্ত আরেকটি আলোচনা সভায় অংশ নেন এনবিআর চেয়ারম্যান।





