
লন্ডন, ১৭ মে – ব্রিটিশ রাজনীতির অস্থিরতা এখন সংখ্যার হিসেবেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গত সাত বছরে দেশটিতে পাঁচজন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করলেও তাদের কেউই পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারেননি। এই একই সময়ের মধ্যে সাতজন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ছয়জন অর্থমন্ত্রী এবং চারজন ক্যাবিনেট সেক্রেটারি পরিবর্তিত হয়েছেন।
ডেভিড ক্যামেরন থেকে শুরু করে থেরেসা মে, বরিস জনসন, লিজ ট্রাস এবং রিশি সুনাক পেরিয়ে বর্তমানে ক্ষমতায় রয়েছেন কিয়ার স্টারমার। ডাউনিং স্ট্রিটের বর্তমান পরিস্থিতিতে রসিকতা করে বলা হয়, সেখানে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী বাসিন্দা হয়তো বিড়াল ল্যারি। এই চিত্রই ব্রিটেনের গভীর নেতৃত্বের সংকটকে তুলে ধরছে।
ইনস্টিটিউট ফর গভর্নমেন্টের প্রধান নির্বাহী হানাহ হোয়াইট মনে করেন,
একের পর এক সংকটের মুখে রাজনৈতিক দলগুলো দুর্বল নেতৃত্ব দিচ্ছে। অন্যদিকে অধ্যাপক অ্যানান্ড মেনন মনে করেন, এটি কোনো কাঠামোগত সমস্যা নয় বরং অর্জিত সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে কাজে লাগাতে না পারা নেতৃত্বের ব্যর্থতা। বর্তমান যুগে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
সাবেক পরামর্শক থিও বার্ট্রাম বলেন, দেশের সমস্যা সমাধানে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হলেও সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে প্রধানমন্ত্রীর হাতে সেই সময় থাকছে না। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে দ্রুত বিদ্রোহ সংগঠিত হওয়ার ফলে মন্ত্রী বা হুইপরা পৌঁছানোর আগেই আলোচনা শেষ হয়ে যাচ্ছে।
এদিকে সিভিল সার্ভিস ও ডাউনিং স্ট্রিটের মধ্যে আস্থার সংকটও প্রকট হয়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার নিজেও স্বীকার করেছেন যে, সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দীর্ঘ সময় লাগছে। ব্যারোনেস ক্যাভেন্ডিশের মতে, প্রতিটি সরকারই ক্ষমতা গ্রহণের পর কাজের জটিলতা দেখে বিস্মিত হয়।
অন্যদিকে সিভিল সার্ভেন্টদের দাবি,
মন্ত্রীরা স্পষ্ট নির্দেশনা দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন। লর্ড হিলের মতে, ডাউনিং স্ট্রিটে ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীভবন মন্ত্রীদের অপ্রাসঙ্গিক করে দিচ্ছে।সাবেক প্রধানমন্ত্রী জন মেজর নেতৃত্বের এই সংকট কাটাতে কঠিন সত্য বলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
তিনি মনে করেন,
মানুষের কাছে সমস্যার কথা স্পষ্ট করে বলে সমাধানের পথ দেখানোই প্রকৃত নেতার কাজ। ইতিহাসবিদ স্যার অ্যান্থনি সেলডন মনে করেন, সাম্প্রতিক প্রধানমন্ত্রীদের রাজনৈতিক দক্ষতার ঘাটতি ছিল এবং তাদের মধ্যে পরামর্শ গ্রহণের বিনয়ও দেখা যায়নি। লর্ড উডের মতে, রাজস্ব, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত কঠোর বাস্তবতাগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরে ঐক্যবদ্ধ পরিকল্পনা গ্রহণ করাই হবে উত্তরণের পথ।
এস এম/ ১৭ মে ২০২৬






