ভারতীয় কারাগারে মৃত্যুর ৩৬ দিন পর বাংলাদেশির মরদেহ হস্তান্তর – DesheBideshe

ভারতীয় কারাগারে মৃত্যুর ৩৬ দিন পর বাংলাদেশির মরদেহ হস্তান্তর – DesheBideshe

লালমনিরহাট, ১৯ মার্চ – ভারতীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় মৃত্যুর দীর্ঘ ৩৬ দিন পর খাইরুজ্জামান নামের এক বাংলাদেশি নাগরিকের মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটায় লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দর ও ভারতের চেংড়াবান্দা ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই মরদেহ হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।নিহত খাইরুজ্জামান কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার পশ্চিম কালুডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

জানা গেছে জীবিকার সন্ধানে প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন তিনি। অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতীয় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই তিনি সেদেশের কারাগারে বন্দি ছিলেন।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি কারাগারে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে জলপাইগুড়ি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন রাতেই তার মৃত্যু হয়। খাইরুজ্জামানের মৃত্যুর পর তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘ আইনি ও কূটনৈতিক জটিলতা পার হতে হয়।

পরিবারের আবেদনের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের যৌথ প্রচেষ্টায় দীর্ঘ ৩৬ দিন পর সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ হয়। মরদেহ হস্তান্তরের সময় সীমান্তে কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের প্রতিনিধি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এবং ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দুই দেশের পুলিশ ও কাস্টমস কর্মকর্তারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

বুড়িমারী ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে সকল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হক জানান যথাযথ নিয়ম মেনেই মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়টি সম্পন্ন হয়েছে।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর স্বজনের মরদেহ ফিরে পেয়ে নিহতের পরিবারে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ নিয়ে কুড়িগ্রামের উলিপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

এনএন/ ১৯ মার্চ ২০২৬