
পাকিস্তানের নাগরিক ছিলেন, কিন্তু ২০১৬ সালে ভারতীয় নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন গায়ক আদনান সামি। এবার ট্রেড অ্যানালিস্ট কোমল নাহাটার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ভারতীয় হওয়ার পর তার জীবন ও ক্যারিয়ারে আসা পরিবর্তন নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন গায়ক। তার কথায়, ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার পর তার সঙ্গে দেশের সম্পর্ক যেন আরও গভীর হয়ে যায়।
কোমল নাহাটার সঙ্গে কথোপকথনে আদনান সামি জানান, পাকিস্তানের নাগরিক থাকাকালীনও ভারতে কাজ পেতে তার কোন বিশেষ সমস্যা হয়নি। তবে ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার পর পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে যায়।
আদনানের কথায়, ‘আমি যখন পাকিস্তানের নাগরিক ছিলাম, তখনও ভারতে কাজ পাওয়া আমার জন্য কঠিন ছিল না। ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার পর অনেক কিছু বদলে গেল। আমি ভারতের হয়ে গেলাম এবং ভারতও আমার হয়ে গেল।’
কীভাবে ভারতীয় নাগরিকত্ব পেলেন আদনান?
আদনান সামি প্রথমবার ২০০১ সালের মার্চ মাসে ভিজিট ভিসায় ভারতে এসেছিলেন। এরপর ধীরে ধীরে ভারতীয় সঙ্গীতজগতে নিজের জায়গা তৈরি করেন। ২০১৫ সালে তার পাকিস্তানি পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যায় এবং সেটি আর নবায়ন করা হয়নি। এরপর মানবিক কারণে ভারতে তার বৈধ অবস্থান বজায় রাখার আবেদন করেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি তিনি ভারতীয় নাগরিকত্ব পান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫-এর ৬(১) ধারার অধীনে তাকে প্রাকৃতিকীকরণের মাধ্যমে নাগরিকত্ব দেয়। শিল্প ও সংস্কৃতিতে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদানও এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
কেন পাকিস্তান ছেড়ে ভারতে এসেছিলেন?
এর আগে একাধিকবার পাকিস্তান ছাড়ার কারণ নিয়েও কথা বলেছেন আদনান। তাঁর দাবি, পাকিস্তানের সঙ্গীতজগতে নিজের ক্যারিয়ার এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো যথেষ্ট সুযোগ ও সহযোগিতা তিনি পাচ্ছিলেন না। সেই কারণেই ভারতে এসে নতুন করে ক্যারিয়ার গড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
ভারতে আসার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলের উৎসাহও গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে জানিয়েছেন আদনান। ভারতে আসার পর তার সঙ্গীতজীবন দ্রুত এগিয়ে যায় এবং তিনি ভারতীয় মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
