
ইসলামাবাদ,০৩ নভেম্বর-পুলওয়ামা সন্ত্রাসী হামলা এবং পরবর্তী উত্তেজনার কারণে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ হওয়ার পর থেকে পাকিস্তান আনুমানিক ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। সোমবার এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির একটি ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রধান।
পাকিস্তান-ভারত বিজনেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান নূর মুহাম্মদ কাসুরি প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে আবারও বাণিজ্যিক সম্পর্ক চালুর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এতে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন। পাশাপাশি বিনিয়োগ, পর্যটন ও আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
এক বিবৃতিতে কাসুরি বলেন, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ থাকায় পাকিস্তানের ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও অন্যান্য পণ্য দূরবর্তী দেশগুলো থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। এতে পণ্য পরিবহন ও জাহাজভাড়া বেড়েছে। পাশাপাশি পণ্য পৌঁছাতেও বেশি সময় লাগছে।
তিনি বলেন, পাকিস্তানের ওষুধশিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক কাঁচামাল ভারত থেকে পাওয়া যেত। প্রতিবেশী দেশটি থেকে এসব কাঁচামাল আমদানি করতে পারলে পাকিস্তারের বছরে ২০০ কোটি থেকে ৩০০ কোটি ডলার সাশ্রয় হতে পারে।
অন্যদিকে তুলার উৎপাদন কমে যাওয়ায় পাকিস্তানের বস্ত্রশিল্পকে বাড়তি খরচের মুখে পড়তে হয়েছে। এখন বস্ত্রকলগুলোকে ব্রাজিল, মিসর, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি করতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত প্রায় ৫০০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে বলে জানান তিনি।
কাসুরি আরও বলেন, এসব পণ্য উৎপাদনের যথেষ্ট সক্ষমতা ভারতের থাকলেও পাকিস্তানকে চিনি, সার, সিমেন্ট, পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য, লোহা ও ইস্পাত, শাকসবজি এবং ভারী যন্ত্রপাতি দূরবর্তী দেশগুলো থেকে আমদানি করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে আবার বাণিজ্য শুরু হলে পণ্য পরিবহনের খরচ কমবে এবং সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানের কাছাকাছি হওয়ায় ভারতের তেল শোধনাগারগুলো থেকে জ্বালানি তেল আমদানি করলে তুলনামূলক কম খরচে এবং দ্রুত তা পাওয়া সম্ভব হবে।
এস এম/ ০৩ নভেম্বর ২০২৬




