৫. ভার্চুয়াল জীবনের কৃত্রিমতায় প্রতারিত হবেন না
মুঠোফোনের জগতে মনে হয়, চারপাশের সব মানুষের জীবন বুঝি নিখুঁত, সুন্দর এবং সুখে ভরপুর। অথচ ভার্চুয়াল জগতের প্রতিটি ছবি, প্রতিটি শব্দ এবং প্রতিটি দৃশ্য অত্যন্ত মার্জিত ও ফিল্টার করা। কেউ তার জীবনের অন্ধকার, দুঃখের বা হতাশার গল্পগুলো ফেসবুকের দেওয়ালে খোলামেলা শেয়ার করে না।
এই কৃত্রিম জাঁকজমক দেখে যখন নিজের জীবনের তুলনা করা শুরু করি, তখন এক ধরনের বিষণ্ণতা বা হীনম্মন্যতা তৈরি হয়। বিভিন্ন গবেষণাতেও দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবনের অতি-পর্যবেক্ষণ মানুষের মধ্যে তীব্র মানসিক অবসাদের জন্ম দেয়।
এই তুলনা আমাদের আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতের প্রতি অকৃতজ্ঞ করে তোলে। অথচ যে কোনো ইবাদতের মূল ভিত্তিই হলো ‘শোকর’ বা কৃতজ্ঞতা। অন্যের কৃত্রিম সুখের তুলনা আমাদের প্রাপ্তিগুলো ছোট করে দেয় এবং জীবনের বরকত আমরা হারিয়ে ফেলি।
আল্লাহ–তাআলা বলেছেন, “যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের (নেয়ামত) বাড়িয়ে দেব।” (সুরা ইব্রাহিম, আয়াত: ৭)
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিজে কোনো মন্দ বিষয় নয়; এর ব্যবহারই একে ভালো বা মন্দের রূপ দেয়। একে নিজের জীবনের ওপর চড়াও হতে না দিয়ে, এর লাগাম নিজের হাতে টেনে ধরুন। আখেরাতের পুঞ্জীভূত নেকি অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করুন।




