বিশ্বকাপের মঞ্চে মাঠের লড়াইয়ের চেয়েও মাঠের বাইরের বিতর্ক এখন তুঙ্গে। বিশেষ করে ইরান ফুটবল দলের ওপর আরোপিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং তা নিয়ে ফুটবল বিশ্বের নীরবতা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এবার এই ইস্যুতে টুর্নামেন্টের অন্য কোচদের রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন ইরানের প্রধান কোচ আমির ঘালেনোই।
বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন ইরান কোচ। হতাশা প্রকাশ করে জানান, টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া অন্য ৪৭ জন কোচের কাছ থেকে তিনি কোনো প্রকাশ্য সমর্থন বা সহানুভূতি পাননি। পরে বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি অন্য কোচরা তাদের নিজেদের দলের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত। কিন্তু এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সবার নীরব থাকাটা দুঃখজনক।’
বেলজিয়াম ম্যাচের ২৪ ঘণ্টারও কম সময় আগে মেক্সিকোর টিহুয়ানা থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসে পৌঁছায় ইরান দল। অথচ ম্যাচের অন্তত দুই দিন আগে ভেন্যুতে পৌঁছানোর জন্য ফিফা ও আয়োজকদের কাছে অনুরোধ করেছিল তারা, যা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হয়।
ঘালেনোইয়ের দাবি, এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে দলের স্বাভাবিক প্রস্তুতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। পরিকল্পনার চেয়ে অনেক কম সময় অনুশীলন করতে পেরেছে দল। ফিফা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও পুরো প্রক্রিয়াটি খেলোয়াড়দের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করেছে এবং বেলজিয়াম ম্যাচের রণকৌশলকে এলোমেলো করে দিয়েছে।
চলতি বিশ্বকাপে ইরান দল অবস্থান করছে মেক্সিকোতে। ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে সেখান থেকেই গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো খেলতে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত করতে হচ্ছে। ঘালেনোই প্রশ্ন তোলেন, সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে গ্রুপ ‘জি’-এর শেষ ম্যাচের জন্য তাদের ভ্রমণ ব্যবস্থাপনায় নমনীয়তা ও বেশি নিয়ন্ত্রণের আশ্বাস দেওয়া হলেও, প্রথম দুটি ম্যাচের ক্ষেত্রে কেন একই নিয়ম প্রযোজ্য হলো না? এই দ্বিমুখী নীতি নিয়েই এখন প্রশ্ন তুলছে ইরান দল।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্তা সংস্থা ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করতে যাচ্ছে ইরানি ফুটবল ফেডারেশন। তাদের স্পষ্ট যুক্তি, এই ধরণের নিষেধাজ্ঞা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর জন্য সমান সুযোগ ও ফেয়ার প্লে-র নীতির পরিপন্থী।




