মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত শুধু একটি ভৌগোলিক স্থানান্তর ছিল না; বরং তা ছিল এক নতুন মানবিক রাষ্ট্র ও আদর্শ সমাজ বিনির্মাণের ঐতিহাসিক শুভ সূচনা। বিভিন্ন ধর্মের মানুষের আবাসস্থল ছিল মদিনা। প্রধান দুটি গোত্র আউস ও খাজরাজ দীর্ঘ যুদ্ধ-বিগ্রহে ক্লান্ত তখন গোত্র।
মদিনায় পৌঁছে আল্লাহর রাসুল (সা.) নতুন নগরবাসীকে কী বার্তা দিয়েছিলেন? মাত্র চারটি গভীর মানবিক ও আত্মিক মূলনীতির ওপর তিনি গড়ে তুলেছিলেন পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে ইনসাফপূর্ণ ও শান্তির সমাজ।
মদিনার ইহুদি পণ্ডিত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম, যিনি পরে ইসলাম গ্রহণ করেন, তিনি বর্ণনা করেন, “আল্লাহর রাসুল যখন প্রথম মদিনায় পদার্পণ করলেন, তখন চারপাশ থেকে মানুষ তাঁর দর্শনের জন্য ভিড় জমাল। আমিও ভিড়ের মধ্যে গিয়ে তাঁর চেহারার দিকে তাকালাম। এক পলক দেখেই আমার অন্তরাত্মা বলে উঠল—এটি কোনো মিথ্যাবাদীর চেহারা হতে পারে না।
“তিনি সমবেত জনতার উদ্দেশে সর্বপ্রথম যে বাণীটি উচ্চারণ করলেন, তা ছিল, ‘হে লোকসকল, তোমরা ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান করো, সমাজে সালামের ব্যাপক প্রসার ঘটাও, আত্মীয়তার বন্ধন সুদৃঢ় রাখো এবং রাতে মানুষ যখন গভীর ঘুমে নিমগ্ন থাকে তখন নামাজ (তাহাজ্জুদ) আদায় করো; তবেই তোমরা পরম শান্তিতে বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৪৮৫)
সংক্ষিপ্ত এই ভাষণে এই বার্তা কেন দিলেন, বিশদ আলোচনা করা হলো।


