মহানবীর কূটনৈতিক সাফল্য

মহানবীর কূটনৈতিক সাফল্য

আরবের প্রভাবশালী গোত্রগুলোর মধ্যে বনু তামিম ছিল অন্যতম। নবম হিজরিতে এ গোত্রের এক প্রতিনিধিদল মদিনায় আসে। তাদের কিছু সদস্য নবীজির কক্ষগুলোর বাইরে দাঁড়িয়ে উচ্চস্বরে তাঁকে ডাকাডাকি শুরু করেন।

এ প্রসঙ্গে কোরআনে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই যারা কক্ষগুলোর বাইরে থেকে আপনাকে উচ্চস্বরে ডাকে, তাদের অধিকাংশই বোঝে না। আপনার বের হয়ে তাদের কাছে যাওয়া পর্যন্ত যদি তারা অপেক্ষা করত, তবে এটা তাদের জন্য কল্যাণকর হতো।’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত: ৪–৫)

গুরুত্বপূর্ণ কারও সঙ্গে সাক্ষাতে সংযম প্রয়োজন, এ ঘটনা সেই শিক্ষা দেয়। তবু রাসুল (সা.) তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও আলোচনা থেকে বিরত থাকেননি।

এই প্রতিনিধিদলে কবি ও বক্তা ছিলেন। আরব সমাজে কবিতা ছিল সামাজিক প্রভাব বিস্তারের প্রধান মাধ্যম। তাই তাঁরা নিজেদের গোত্রের মর্যাদা ও গৌরব তুলে ধরতে চেয়েছিলেন।

জবাবে নবীজি সাহাবি সাবিত ইবনে কায়েসকে বক্তৃতার মাধ্যমে এবং হাসসান ইবনে সাবিতকে কবিতার মাধ্যমে উত্তর দেওয়ার দায়িত্ব দেন।

এই মোকাবিলার পর তামিম গোত্রের নেতারা মুসলিম পক্ষের বক্তা ও কবির শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করেন এবং ইসলাম গ্রহণ করেন। এতে বোঝা যায়, ইসলাম প্রচারে কবিতা, সাহিত্য ও বাগ্মিতাকেও যথাযথভাবে কাজে লাগানো হয়েছে। (ইবনে হিশাম, আস–সিরাতুন নাববিয়্যাহ, ৪/২০৫–২১০, দারুল কিতাব আল–আরবি, বৈরুত, ১৯৯০)