মহুয়া মৈত্রকে লক্ষ্য করে পচা ডিম নিক্ষেপ, উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতি

মহুয়া মৈত্রকে লক্ষ্য করে পচা ডিম নিক্ষেপ, উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতি

পশ্চিমবঙ্গের কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্রকে লক্ষ্য করে পচা ডিম, পচা বেগুন ও পানির বোতল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে তাকে উদ্দেশ্য করে ‘চোর-চোর’ স্লোগানও দেওয়া হয়।

বুধবার কালীগঞ্জে একটি তিনতলা কমিউনিটি ভবনে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন মহুয়া মৈত্র। সভা চলাকালে কালীগঞ্জ জাতীয় সড়কে কালো পতাকা হাতে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা জড়ো হন।

একপর্যায়ে তারা ‘চোর-চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। সে সময় ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থান করছিলেন মহুয়া মৈত্র। নিচ থেকে তাকে লক্ষ্য করে পচা ডিম, পচা বেগুন এবং পানির বোতল ছুড়ে মারা হয়।

ঘটনার পুরো বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করেন মহুয়া মৈত্র। সেখানে তিনি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তোলেন।

মহুয়া মৈত্র বলেন, ‘আমি এখানে দাঁড়িয়ে আছি। তারা চায় আমি মুখ লুকিয়ে পালিয়ে যাই। কিন্তু আমি তা করব না। এটি আমার নির্বাচনী এলাকা। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে কয়েকজন উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তির ভয়ে আমি এলাকা ছাড়ব না।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার দায়িত্ব পুলিশের হলেও তারা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকেও দর্শকের ভূমিকা পালন করেছেন।

মহুয়া মৈত্র দাবি করেন, নিক্ষেপ করা একটি পচা ডিম তার শাড়িতে লেগেছে। তিনি আরও জানান, বিষয়টি রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অবহিত করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এ সময় উপস্থিত এক তৃণমূল কর্মী তাকে নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশি সহায়তায় স্থান ত্যাগ করার পরামর্শ দেন। তবে মহুয়া মৈত্র জানান, তিনি ভয়ের কাছে নতি স্বীকার করবেন না এবং নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে নিজের অবস্থানে অটল থাকবেন।

ঘটনার সময় তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন নেতা-কর্মী বিকল্প পথ ব্যবহার করে সভাস্থল ত্যাগ করেন বলেও জানা গেছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তবে ঘটনার বিষয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।