মাত্র হাজার টাকায় এমন স্বর্গীয় সৌন্দর্য | চ্যানেল আই অনলাইন

মাত্র হাজার টাকায় এমন স্বর্গীয় সৌন্দর্য | চ্যানেল আই অনলাইন

প্রকৃতির রঙ, পাহাড়ের হাতছানি আর জলরাশির অপার বিস্তার বর্ষাকালে টাঙ্গুয়ার হাওর যেন এক জীবন্ত জলরঙের ক্যানভাস। বর্ষা মানেই শুধু বৃষ্টি নয়, বরং প্রকৃতিকে নতুন রূপে আবিষ্কার করার ঋতু। আর সেই সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের অন্যতম সেরা গন্তব্য সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর। প্রতি বছর বর্ষা এলেই দেশের নানা প্রান্ত থেকে ভ্রমণপিপাসুরা ছুটে যান এই হাওরের অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে।

রামসার সাইট হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত টাঙ্গুয়ার হাওর বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিঠাপানির জলাভূমি। প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই হাওর শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যই নয়, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত গুরুত্বের কারণেও বিশেষ পরিচিত।

কেন বর্ষাতেই যাবেন?

বর্ষায় টাঙ্গুয়ার হাওরের আসল রূপ ফুটে ওঠে। পানিতে ভরে যায় বিস্তীর্ণ হাওর, আর নৌকাই হয়ে ওঠে একমাত্র ভরসা। ভোরের কুয়াশা, দূরে মেঘালয়ের পাহাড়, পানিতে গাছের প্রতিবিম্ব আর মাঝেমধ্যে জেলেদের নৌকা সব মিলিয়ে তৈরি হয় এক অনবদ্য দৃশ্য।

দিনের শুরুতে সূর্যের আলো যখন পানির ওপর ঝিলিক তোলে, আর বিকেলে আকাশজুড়ে রঙের খেলা শুরু হয়, তখন টাঙ্গুয়ার হাওর যেন এক শিল্পীর আঁকা ছবিতে পরিণত হয়।

যেভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে রাতের বাসে সুনামগঞ্জ পৌঁছানো যায়। সেখান থেকে সিএনজি বা মোটরসাইকেলে তাহিরপুর বাজার। তাহিরপুর থেকেই ইঞ্জিনচালিত নৌকা বা হাউসবোট ভাড়া করে শুরু করা যায় টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণ। বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দলবেঁধে গেলে নৌকা ভাড়ার খরচ ভাগ হয়ে যায়, ফলে ভ্রমণ আরও সাশ্রয়ী হয়।

কত খরচ হতে পারে?

পরিকল্পনা করে ভ্রমণ করলে খুব বেশি খরচ হয় না।
• ঢাকা–সুনামগঞ্জ যাতায়াত: প্রায় ৮০০–১,২০০ টাকা
• তাহিরপুর যাতায়াত: ৩০০–৫০০ টাকা
• নৌকা ভাড়া (দলগত): জনপ্রতি ৮০০–১,৫০০ টাকা
• খাবার ও অন্যান্য: ৮০০–১,২০০ টাকা

সব মিলিয়ে জনপ্রতি ৩ থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যেই একটি সুন্দর বর্ষা ভ্রমণ সম্ভব।
ঘুরে দেখতে পারেন
• টেকেরঘাট
• নীলাদ্রি লেক
• টাঙ্গুয়ার হাওরের ওয়াচ টাওয়ার
• বারিক্কা টিলা
• মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা পাহাড়ি দৃশ্য

সময় থাকলে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দুটোই উপভোগ করার চেষ্টা করুন। বর্ষায় এই দুই সময়ের দৃশ্য টাঙ্গুয়ার হাওরের অন্যতম আকর্ষণ। ভ্রমণে সচেতন থাকুন।

হাওর একটি সংরক্ষিত প্রাকৃতিক এলাকা। তাই ভ্রমণের সময় প্লাস্টিক, বোতল বা যেকোনো ধরনের বর্জ্য ফেলে পরিবেশ নষ্ট করবেন না। নৌকায় চলাচলের সময় লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করুন এবং স্থানীয় মানুষের জীবনযাপন ও সংস্কৃতির প্রতি সম্মান দেখান।

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কথা উঠলে পাহাড় সমুদ্র কিংবা বনভূমির পাশাপাশি টাঙ্গুয়ার হাওরের নামও সমান গুরুত্বের সঙ্গে উচ্চারিত হয়। বর্ষাকালে এই হাওর যেন আরও জীবন্ত, আরও মায়াময়। ব্যস্ত নগরজীবন থেকে কয়েক দিনের বিরতি নিয়ে যদি প্রকৃতির কাছে ফিরে যেতে চান, তবে অল্প খরচে টাঙ্গুয়ার হাওর হতে পারে আপনার জন্য একটি আদর্শ গন্তব্য।

হয়তো নৌকার ধীরগতির সেই যাত্রায় মেঘালয়ের পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে আপনি নতুন করে আবিষ্কার করবেন বাংলাদেশের অপার সৌন্দর্য।